ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের গাবখান নদীসংলগ্ন রুপসিয়া গ্রামে মাচাজুড়ে ঝুলছে সারি সারি লাউ। সবুজ পাতার আড়ালে বড় হয়ে ওঠা লাউয়ের সমারোহে মুখর কৃষক কামরুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানের ক্ষেত। উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে নিরাপদ উপায়ে লাউ চাষ করে এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ কর্মসূচির আওতায় খরিফ মৌসুমে (মার্চ থেকে অক্টোবর মাস) কামরুল ও মিজানুর যৌথভাবে ১০০ শতক জমিতে উত্তম কৃষি চর্চা (জিএপি) অনুসরণ করে লাউ চাষ করেন।
কৃষক মাঠ স্কুল থেকে উত্তম কৃষি চর্চার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেয়ার পর সেগুলো অনুসরণ করেই নিরাপদ উপায়ে লাউ চাষ করছেন তারা। এতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ সবজি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
এ পদ্ধতিতে সেচের জন্য গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে শতভাগ জৈব সার, বিশেষ করে কেঁচো সার। কীটপতঙ্গ দমনে রাসায়নিকের পরিবর্তে জৈবিক পদ্ধতি হিসেবে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করছেন কৃষকরা।
তারা ইতোমধ্যে ক্ষেত থেকে ২০০টির বেশি লাউ বিক্রি করেছেন। বাজারেও পেয়েছেন ভালো দাম। এখনো তাদের ক্ষেতের গাছে ঝুলছে ২০০টির বেশি লাউ। ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় খুশি তারা।
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে মৌসুমি ফসল চাষ করতাম। তাতে সংসার চালানো কঠিন ছিল। লাউ চাষ শুরু করার পর পরিস্থিতি বদলেছে। উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করায় খরচ কমছে ও ভালো ফলনও পাচ্ছি। নিরাপদ উপায়ে লাউ উৎপাদন করতে পেরে আমি সন্তুষ্ট।’
তাদের সাথে নিয়মিত কাজ করছেন দু’জন শ্রমিক। ক্ষেত থেকে লাউ তুলে পাইকারদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি নিজেও বাজারে নিয়ে যান। তাদের ক্ষেতের টাটকা লাউ কিনতে দূর-দূরান্ত থেকেও আসেন ক্রেতারা।
কামরুল জানান, বড় কোনো বন্যা না হলে লাউ চাষ থেকে বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ বিঘা জমি প্রস্তুত করছেন।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আহমেদ জানান, কামরুল-মিজানুরের লাউ বাগানে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উন্নত জাতের বীজ দিয়ে চাষাবাদেও সহযোগিতা করা হয়েছে। উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে তাদের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, ‘ঝালকাঠি সদর উপজেলায় প্রতিবছরই লাউয়ের বাণিজ্যিক আবাদ বাড়ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে লাউয়ের আবাদ হয়েছে। এসব জমির উৎপাদিত লাউয়ের বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি টাকার বেশি।’



