বাংলাদেশ-মার্কিন ‘স্বার্থবিরোধী’ বাণিজ্য চুক্তি সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব রুমিন ফারহানার

এক মিনিট সময় চেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যদি সরকার চায় এ চুক্তিটি বাতিল করতে পারে। চুক্তিটি সংসদে আনা হোক। এ সময় স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে পারছি না বলে দুঃখিত।

সংসদ প্রতিবেদক
সংসদে রুমিন ফারহানা
সংসদে রুমিন ফারহানা |ইন্টারনেট

বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্বার্থবিরোধী’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করতে সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই প্রস্তাব করেন। তবে স্পিকার পয়েন্ট অব অর্ডার গ্রহণ না করে বিষয়টি নিয়ে নোটিশ দেয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রুমিন ফারহানা সংসদকে বলেন, গতকাল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে। এবং সেই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আমাদের আমেরিকার সাথে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেই বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতনির ঘাটতি, বাংলাদেশের কৃষি ও জ্বালানিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো মার্কিন রাষ্ট্রদূত তুলে ধরেন। এখানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরেকটি বিষয় আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন যে দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমরা রফতানি করি; আমেরিকা থেকে সে পরিমাণ পণ্য আমরা আমদানি করি না এবং যে কারণে একটা বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি যে ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। তখন বাংলাদেশের যারা সুশীল সমাজ আছেন, থিংক ট্যাংক আছেন- তারা বারবার বলেছেন যে একটি অনির্বাচিত সরকার এই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না এবং এই চুক্তিতে অনেকগুলো ক্লজ আছে যেটা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী সুতরাং নির্বাচনের পরে যখন একটি নির্বাচিত সরকার আসবে তখন যেন এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু আনফরচুনেটলি আমরা দেখলাম যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুনলো না এবং ৯ ফেব্রুয়ারি এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

এ সময় স্পিকার রুমিন ফারহানার উদ্দেশে বলেন, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। ৩০১ বিধিতে আপনি পড়ে দেখতে পাবেন, যে পয়েন্ট অব অর্ডার সংসদের চলমান বিষয়ের ওপরে হতে হয় কিংবা সংসদের কাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য হতে হয়, আপনি একটি নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, আপনি নোটিশ দেন এটি বিবেচনা করে দেখা হবে।

এরপর এক মিনিট সময় চেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, যদি সরকার চায় এ চুক্তিটি বাতিল করতে পারে। চুক্তিটি সংসদে আনা হোক।

এ সময় স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে গ্রহণ করতে পারছি না বলে দুঃখিত।