দেশের পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা এখনো পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে ভালো ও স্বনামধন্য বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কমিশনের আগারগাঁও কার্যালয়ে সরাসরি তালিকাভুক্তির খসড়া বিধিমালা নিয়ে অংশীজনদের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এর ফলে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়ার পাশাপাশি দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের পথও সুগম হবে।
চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে একটি কোম্পানির সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং শক্তিশালী করপোরেট ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। একইসাথে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বিভিন্ন কর-সুবিধা, কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি ও শেয়ারের তারল্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়। এতে কোম্পানির উত্তরসূরিরাও তাদের শেয়ার নগদায়নের সুযোগ পান। ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণে অতিরিক্ত পুঁজির সংস্থানেও তালিকাভুক্তি সহায়ক হবে।
তিনি আরো বলেন, সরাসরি তালিকাভুক্তির পাশাপাশি কমিশন প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) বিধিমালাকে আরো বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি নতুন শেয়ার ইস্যু করে অর্থাৎ সমন্বিত পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে পারে-এ বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিএসইসি জানায়, মৌলভিত্তিসম্পন্ন ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি সিকিউরিটিজ তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ কমিশনের আগারগাঁও কার্যালয়ে অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএসইসির কমিশনাররা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিক লিস্টেড কোম্পানিজ ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিসহ বিভিন্ন তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ব্যবস্থাপক, পেশাজীবী সংগঠন এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় প্রস্তাবিত বিধিমালার আওতায় স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির যোগ্য কোম্পানি, আবেদন ও তালিকাভুক্তির শর্ত এবং মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। অংশীজনরা খসড়া বিধিমালার বিভিন্ন ধারা ও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিষয়ে মতামত, পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরাসরি তালিকাভুক্তি এবং একইসাথে বিদ্যমান শেয়ার বিক্রি ও আইপিওর মাধ্যমে সমন্বিত পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়ে বিএসইসির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মতামত দেয়ার আশ্বাস দেন। বাসস



