ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জোয়ারের পানিতে আবাসনের বাসিন্ধারা চরম দুর্দশাগ্রস্তভাবে দিন কাটাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানির ঢল প্রবেশ করে আবাসনে আরো ক্ষতিগ্রস্তের আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসন সংলগ্ন প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম উদাসিনতা ও গাফিলতির কারণে ওই আবাসনের ১৪০ পরিবারের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীর ঢেউ ও জোয়ারের পানিতে নিয়মিত বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আবাসনের ১৪০ পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্তিত্ব সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড গাইমারা এলাকার অন্তত দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বেশিরভাগই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দু’টি স্থানে বেড়িবাঁধের কোনো অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিবছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙ্গে নদীর সাথে মিশে যায়। কার্যত এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর বেড়িবাঁধ দিয়ে টাকা কামানোর ধান্ধায় ব্যস্ত থাকে।
করতোয়া আবাসনের বাসিন্ধা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনের মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোনো রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ায় হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে আবাসন এলাকায় পানি টইটুম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের নিয়ে কোনো রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো: রাসেল সিপাহী বলেন, বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে, শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।



