জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে ‘জুলাই দ্রোহ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রাজধানীর শনির আখরা দনিয়া কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত এ ‘জুলাই দ্রোহ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাফেজ দেলাওয়ার হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে দলীয় লোকজনকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে বিএনপিও একই পথে হাঁটছে।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সব রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এসব বন্ধ না হলে জনগণ আবারো আন্দোলনে নামবে।’
এনসিপির পদযাত্রায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জুলাই পদযাত্রায় বাধা দেয়া হচ্ছে এবং নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘অতীতে বালুর ট্রাক অপসারণ করতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা শহীদ হয়েছেন। অথচ তখন অনেকেই নীরব ছিলেন। আজও ট্রাক দিয়ে জুলাই পদযাত্রায় বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে জনগণ তার উপযুক্ত জবাব দেবে।’
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না, তারাই এখন আন্দোলনের অর্জনকে নিজেদের বলে দাবি করছে। অথচ জুলাই শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। শহীদ পরিবারগুলো এখনো তাদের প্রত্যাশিত সম্মান ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই মাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ পরিবারকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরও উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। জনগণ সবকিছু দেখছে এবং সময়মতো যথাযথ জবাব দেবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে হাফেজ দেলাওয়ার হোসাইন বলেন, ‘আজ যে স্থানে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে, জুলাইয়ে সেই স্থান ছিল বিভীষিকাময় ঘটনার সাক্ষী। শহীদ পরিবারের সদস্যরা যখন প্রশ্ন করেন তাদের সন্তান যে সংস্কারের জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই সংস্কার কোথায় তখন আমাদের কাছে তার সন্তোষজনক উত্তর থাকে না। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঐতিহ্যবাহী অনুপম শিল্পী গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত, নাটিকা, কৌতুক ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এছাড়া শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার অর্থ সম্পাদক ওমর ফারুক ফাহিম, অফিস সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাইফুল, শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।



