ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে : শামসুল ইসলাম

‘দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শ্রমজীবী। দেশের গুণগত পরিবর্তন ও উন্নয়নে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। তাই শ্রমজীবী মানুষের কর্মপরিবেশ, অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম।

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শ্রমজীবী। দেশের গুণগত পরিবর্তন ও উন্নয়নে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। তাই শ্রমজীবী মানুষের কর্মপরিবেশ, অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মগবাজারের আলফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে দেশে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। অতীতে মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনের মুখোমুখি হলেও আদর্শের সংগ্রাম থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। শ্রমিকদের ত্যাগ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, মানুষকে একদিন মৃত্যুবরণ করে পরকালে যেতে হবে। তাই দুনিয়ায় যতদিন বেঁচে থাকা যায়, ন্যায়-নীতি ও আদর্শের ওপর অটল থাকতে হবে।

১৫ আগস্ট শহীদ আবদুল মালেকের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলার কারণে আবদুল মালেককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ইসলামবিরোধী শক্তির হাতে তিনি শহীদ হন। তার মতো বহু মানুষ ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন দিয়েছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সব সেক্টরে মজুরি পুনর্গঠন করতে হবে। একইসাথে শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আট ঘণ্টা কর্মদিবস ও ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

আতিকুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি সে অনুযায়ী বাড়েনি। পোশাক খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি দিয়ে একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন। তাই পোশাকসহ সব খাতে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্গঠন করতে হবে।

সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবনধস, অগ্নিকাণ্ড ও বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা বন্ধে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সীতাকুণ্ডের দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শ্রমিকদের ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হলেও অনেক ক্ষেত্রে ওভারটাইম দেয়া হয় না। কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টায় নির্ধারণ এবং নারী শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত শ্রমিকরা ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অবিলম্বে এ হয়রানি বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদক লসকর মো: তসলিমের সঞ্চালনায় এবং কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। কোরআন থেকে আলোচনা পেশ করেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান। এ সময় কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, কবির আহমদ, মুজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।