বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের চর্চা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতা, কুটিলতা ও বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করে।
সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও উপন্যাসের মধ্যে মানবতাবাদী চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। তিনি সাম্প্রদায়িক গণ্ডি অতিক্রম করে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানবতার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। তার সাহিত্যচর্চা মানুষের হৃদয়কে মননশীল করে তোলে।’
তিনি বলেন, ‘সমাজে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের কুটিলতা, হিংসা ও অপকর্মের মধ্যে মানুষ জড়িয়ে পড়ে। এসব নেতিবাচকতা থেকে মুক্তি পেতে রবীন্দ্র সাহিত্য ও রবীন্দ্রসংগীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলা ভাষাভাষী মানুষ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা রবীন্দ্রচর্চা করেন, তারাও কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী পালন করছেন।’
তিনি শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এবারের রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রশংসনীয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং জাতির বিভিন্ন সংকটে তাদের সাহিত্য ও গান মানুষকে সাহস ও শক্তি জুগিয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ যেমন বাংলা সাহিত্যের বড় সম্পদ, তেমনি নজরুলও আমাদের জাতীয় সম্পদ। সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, বরং জাতিসত্তার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ দাশ ও জসীমউদ্দীনদের সামনে রাখতে হবে।’



