রেলপথ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম দূরত্ব কমাতে কর্ডলাইন স্থাপনের ফিজিবিলিটি স্টাডি চলছে

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রেলপথে আমরা যাত্রীসেবা বৃদ্ধি করতে চাই। রেলপথে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব যাতে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেজন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি কর্ডলাইন স্থাপন করার জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ |ফাইল ছবি

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রেলপথে আমরা যাত্রীসেবা বৃদ্ধি করতে চাই। রেলপথে ঢাকা-চট্টগ্রামের দূরত্ব যাতে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেজন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি কর্ডলাইন স্থাপন করার জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফিংকালে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে। সে ক্ষেত্রে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় কমে আসবে।

এর আগে, প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার থেকে দোহাজারি পর্যন্ত রেলপথ পরিদর্শন করেন।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে আরো একজোড়া নতুন ট্রেন চালু করার চিন্তা করছি। এতে এ রুটে যাত্রীদের যাতায়াত আরো সহজ, আরামদায়ক ও সময়োপযোগী হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে রেলপথে সর্বোচ্চ যাত্রী সেবা নিশ্চিত করা।’

তিনি জানান, আমি কক্সবাজার থেকে চকরিয়া হয়ে দোহাজারী পর্যন্ত এসেছি। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন তৈরি করার সময় প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার গাছ কর্তন করা হয়েছিল। সেগুলোর পরিবর্তে যে গাছগুলো লাগানো হয়েছিল সেগুলো বর্তমানে কী অবস্থায় আছে তা সরেজমিন দেখেছি। সেখানে যদি গাছের কোনো ঘাটতি, থাকে সেগুলো যাতে পূরণ করা যায় সে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

রেলের বিভিন্ন জায়গা দখল করে মাদকের আখড়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, মাদক প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। শুধু রেল নয়, মাদকের বিরুদ্ধে সারাদেশে অভিযান চলছে। সুতরাং মাদকের সাথে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। মাদকের সাথে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার। সুতরাং আমাদের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা রয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তাদের ব্যাপারে যেসব অভিযোগ আমরা পাই, সেগুলো তদন্ত কমিটি করার মাধ্যমে তদন্ত কমিটির যে সিদ্ধান্ত সেটা বাস্তবায়ন করা হয়। যেকোনো অভিযোগ পেলে সেটা তদন্ত করে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নতুনভাবে রেলের কোনো জায়গা লিজ দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে যেগুলো লিজ দেয়া হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে যেসব বাতিল করার প্রয়োজন সেগুলো বাতিল করা হবে। বর্তমানে রেলের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দলীয়করণ করার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও আমরা যদি কোনো অভিযোগ পাই, অবশ্যই সেগুলো সাথে সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাসস