জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত আটটি নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা বিভাগ আইসিএস পাবলিকেশনস। অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও চেতনাকে গবেষণা, সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জুলাইয়ের চেতনাকে খাটো করার যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিহত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘রক্তে ভেজা সবুজ ডানা’, ‘এক মুঠো রোদ’, ‘আমার জুলাই’, ‘জুলাই বাংলা বর্ণমালা’, ‘জুলাই স্মৃতি (দ্বিতীয় খণ্ড)’, ‘জুলাই রেভল্যুশন ওয়ালস’, ‘স্পিরিট অব জুলাই ’২৪: এ-টু-জেড’ এবং ‘মক্তব’ শীর্ষক আটটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে আন্ডারমাইন করার নানা ধরনের অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র হলো জুলাই আন্দোলনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা।
তিনি বলেন, জুলাই ছিল সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন। তাই এর ইতিহাস বিকৃত বা খাটো করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরো বলেন, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অন্যায়মুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই জুলাই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা। সেই চেতনাকে ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম জুলাই আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। গবেষণা, সাহিত্য, গল্প, উপন্যাস এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনাকে দীর্ঘস্থায়ী করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ছাত্রশিবির জুলাই আন্দোলন নিয়ে গবেষণা, প্রকাশনা, শিশু-কিশোরদের জন্য বই প্রকাশ এবং সারাদেশে স্মৃতিলেখন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যারা জুলাইয়ের ইতিহাস ও স্মৃতিকে ম্লান করার চেষ্টা করছেন, তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের চেষ্টা হলে জনগণকে সাথে নিয়ে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম বলেন, জুলাইকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কল্পনা করা যায় না। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই ইসলামী ছাত্রশিবির বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় ছিল এবং ভবিষ্যতেও সংগঠনটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। তিনি জুলাইয়ের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে লেখক, গবেষক ও প্রকাশকদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু ইতিহাসগ্রন্থে নয়, সাহিত্য, নাটক, শিল্প ও সংস্কৃতিতেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, জনগণের সংগ্রাম এবং নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, জুলাই কোনো একক সংগঠনের আন্দোলন ছিল না; বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়েছিল। তাই জুলাইয়ের চেতনাকে সব রাজনৈতিক শক্তির ধারণ করা উচিত। একইসাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত না হলে এবং অতীতের সঙ্কটগুলো ফিরে এলে ভবিষ্যতে আরো বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, লেখক, শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক সাইফুল আরেফিন লেনিন, কথাসাহিত্যিক ও কবি সোলায়মান আহসান, লেখক জুয়ায়ের হুসাইন এবং জুলাই শহীদ নাসির হাসান রিয়ানের বাবা মো: গোলাম রাজ্জাকসহ সাহিত্যিক, গবেষক, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



