তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের ‘মূর্তমান প্রতীক’ হিসেবে জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য।’
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় সায়েমা জেরিন রচিত ‘জুলাই আন্দোলন এবং গুলিবিদ্ধ দুই চোখ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শত জুলুম ও নির্যাতন নীরবে সহ্য করেও তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ছিলেন।’
রাষ্ট্র সংস্কারে দূরদর্শিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পুরনো ব্যবস্থা ধ্বংসের পর নতুন ব্যবস্থা গড়ার কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ধ্বংস পর্বে যে ধরনের শক্তি লাগে, গঠন পর্বে প্রয়োজন পড়ে সৃজনশীলতা ও রাজনৈতিক পরিপক্কতা। কেবল অর্ধেক গুণ দিয়ে নেতৃত্ব দেয়া যায় না; দেশ ও সমাজকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে নেতৃত্বের মধ্যে গঠনমূলক ও সৃজনশীল গুণাবলী থাকা আবশ্যক।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা রাজপথে ফয়সালা করেই স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছি; তাই জনগণের রায়ে আজ দেশ পরিচালনায় এসেছি। তাই বিজয়ী সরকারের জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের কোনো প্রতিহিংসার ভাষা নেই। আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য সেবামুখী ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন করা। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক যে, গণতন্ত্রের ভেতরে থেকে এখন কেউ কেউ ফ্যাসিবাদের ভাষা ব্যবহার করতে চায়, যা অভিজ্ঞতার অভাব ছাড়া আর কিছুই নয়।’
সরকারের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সক্রিয় ও কার্যকরী সংসদীয় ব্যবস্থা চালু রাখতে বদ্ধপরিকর, যেখানে সংসদেই বিতর্ক হবে এবং বিরোধী দল সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া বা রাজপথে কৃত্রিম নাটক তৈরি করে যারা বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। সমাজের সব অন্ধত্ব দূর না করলে ফ্যাসিবাদ বারবার আক্রমণ করবে।’
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মেলবন্ধন বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বর্ধিত রূপই হচ্ছে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। দু’টি সংগ্রামের লক্ষ্যই ছিল গণমানুষের অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তাই কোনো মহল যাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে জুলাইয়ের আত্মত্যাগের চেতনাকে পৃথক করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক খোন্দকার মাশুকুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত বীর যোদ্ধারা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বাসস



