সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাইবিহীন, মনগড়া ও কাল্পনিক তথ্য প্রকাশ করে পরিচালিত নেতিবাচক প্রচারণার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার (৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তি বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ প্রধান থেকে শুরু করে রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার, অফিসার ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন এবং যাচাই-বাছাইবিহীন, মনগড়া ও কাল্পনিক তথ্য প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তার নতুন পদায়নের পরই তাকে লক্ষ্য করে অতিমাত্রায় এ ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সক্রিয়কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জনমনে বিদ্বেষ সৃষ্টি ও তাদের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করছে যে, কোনো পুলিশ সদস্য অতীতে গুম, খুন, দমন-পীড়ন, নির্যাতন কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কেবল বিগত সরকারের আমলে চাকরি করার অজুহাতে পেশাদার, সৎ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, এসব অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য হলো পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল দুর্বল করা, সদ্য পদায়ন প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করা, সামগ্রিকভাবে পুলিশ বাহিনীকে ডিমোরালাইজড করা, জনমনে পুলিশ বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সার্বিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যে, পুলিশ বাহিনীকে ডিমোরালাইজড করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত মানহানিকর প্রচারণা, মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং পেশাদার কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে দেয়ার এই অপচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিবর্গ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। একইসাথে পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষা ও সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টাকে জোরদার করতে সব সচেতন নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।



