জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোহাম্মদপুর থানার ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) নূরুল ইসলামের অপসারণের দাবি জানিয়েছে সচেতন নাগরিক ফোরাম।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তারা এ দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নূরুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তারা দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখা উচিত নয়।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ছাত্র হত্যা মামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসাথে সিএজি নূরুল ইসলামকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরো বলেন, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শেখ হাসিনার দোসর সকল সাংবিধানিক পদের প্রধানরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে পালিয়েছে। কেউ আবার আত্মগোপনে আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় সিএজি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ এই প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে বর্তমান নিয়োগকৃত সিএজি নূরুল ইসলাম চাটুকারিতা, দুর্নীতি, অযোগ্যতার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন।
তারা আরো বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক অ্যাজেন্টরা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে তাকে এই পদে বসানো হয়েছিল। ওই সরকারের পতনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একমাত্র সিএজি, যিনি কর্মকর্তাদের টুঙ্গিপাড়া ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে যেতে বাধ্য করতেন। শুধু তাই না, সরকারি অর্থে ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মদিন, শেখ কামালের জন্মদিন, শেখ রাসেলে জন্মদিন, শেখ রাসেল দিবসসহ মুজিব পরিবারের বিভিন্ন জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী নিয়মিত কেক কাটা ও দোয়ার আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করতেন। এসব অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়া হতো।
এছাড়াও শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি অডিট ভবনের নিচতলায় শেখ মুজিব কর্ণার স্থাপন সিএজি’র কার্যালয়ের সামনে সেবা প্রার্থীদের অপেক্ষার স্থান সংকুচিত করে শেখ মুজিবের ম্যুরাল নির্মাণ, সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পোস্ট দেয়ার প্রতিযোগিতা করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি সকল কর্মকর্তাদের ডেকে ফেইসবুক প্রোফাইল কালো করার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তারা সেই নির্দেশ না মানলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মানববন্ধনে দুর্নীতিবাজ শেখ হাসিনার দোসর সিএজির নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ চাকরি থেকে অপসারণের আবেদন জানানো হয়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন জুলাই যোদ্ধা কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম বাদল, মো: আলী হোসেন, ফিরোজ মাহমুদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সচেতন নাগরিক ফোরামের সভাপতি সাইফুল ইসলাম।



