সারাদেশের শাখা দায়িত্বশীলদের নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দিনব্যাপী ‘শাখা দায়িত্বশীল কর্মশালা–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বারিধারায় সকাল ৭টায় দারসুল কুরআনের মাধ্যমে কর্মশালার সূচনা হয়। দারস পেশ করেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাকওয়া ও নৈতিকতাই ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মীর মূল চালিকাশক্তি। এই শক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে দাওয়াতি কাজ ও সাংগঠনিক জীবনও দুর্বল হয়ে পড়ে।’
নৈতিকতার শক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে তিনি পর্দার বিধান পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং দায়িত্বশীলদের নিজেদের নৈতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি একে অপরের নৈতিকতার পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘একজন কর্মীর জীবন ইলম ও আমলের সমন্বয়ে গড়ে উঠতে হবে। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল নামাজের প্রতি যত্নবান হতে হবে।’
মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সহকর্মীদের প্রতি মানবিক আচরণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সফলতা ত্যাগের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ও জীবন উৎসর্গের মানসিকতা অর্জন করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, আধুনিক যুগের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জনশক্তিদের যথাযথ তত্ত্বাবধান ও পরিকল্পিত পরিচর্যার বিকল্প নেই। তিনি সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক জনশক্তি তৈরিতে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক জনশক্তির মেধা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।’
পড়াশোনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, ‘একজন কর্মীর ব্যক্তি, পারিবারিক, সাংগঠনিক ও একাডেমিক জীবন পরস্পরের পরিপূরক। সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে নিজের পড়ার টেবিলকেও আন্দোলনের ময়দান হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
দিনব্যাপী কর্মশালায় ষাণ্মাসিক রিপোর্ট পেশ ও পর্যালোচনা, উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর ছাড়াও সংগঠন সম্প্রসারণ, জনশক্তি ব্যবস্থাপনা, দক্ষ নেতৃত্ব গঠন, অফিস ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. উসামা আল আযমী, সহকারী অধ্যাপক, হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয় (কাতার), সাদিক কায়েম, ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং সাবেক কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক, ছাত্রশিবির ও ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক, ছাত্রশিবির।
এছাড়াও কর্মশালায় শিবিরের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদসহ অন্য কেন্দ্রীয় সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।



