ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে উঠেছে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ফরম বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
প্রথম মনোনয়ন ফরম তুলে দেন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামানের সহধর্মিণী ইয়াসমিন আসাদের হাতে।
উদ্বোধনকালে রিজভী বলেন, আজ থেকে শুরু হয়ে বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি ১২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। প্রতিটি ফরমের মূল্য নেয়া হচ্ছে দুই হাজার টাকা।
তিনি বলেন, এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীদের জন্য যে সংরক্ষিত আসন, আপনাদের যে প্রত্যাশা, সে প্রত্যাশা থাকবেই। আপনারা দলের মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করতে এসেছেন। আপনাদের প্রাণের একটি আকুতি আছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটা নিয়ে যাবেন এবং দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
সংরক্ষিত আসনে সদস্য হওয়ার যোগ্যতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আপনাদের আন্দোলনের ভূমিকা, বিগত ১৬-১৭ বছরের আন্দোলনের ভূমিকা, আপনাদের দক্ষতা এবং পার্লামেন্টে কথা বলার দক্ষতা এবং অন্যান্য যে যোগ্যতা থাকা দরকার সবগুলো বিবেচনা করেই দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম বা পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।
পার্লামেন্টারি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে সেই সিদ্ধান্তটা সবাইকে মান্য করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা (মনোনয়ন) আমি পেলাম না এবং ও পেলো বলে এক ধরনের বিশ্রি পরিবেশ তৈরি করা- এটা করা যাবে না।
তিনি বলেন, কারণ আপনারা এই দলের জন্য অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন, অনেক বেদনা আপনাদেরকে পোহাতে হয়েছে। সুতরাং দলীয় সিদ্ধান্ত আপনারা সবাই মান্য করবেন। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
সংরক্ষিত আসনে ফরম বিক্রির জন্য কয়েক শ’ নারী নেত্রী নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হন। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে ফরমের জন্য ২ হাজার টাকা দিয়ে দিয়ে রশিদ কাটেন। ফরম তোলা নিয়ে নারী নেত্রীদের মধ্যে আবেগ উচ্ছ্বাসও প্রকাশ পেতে দেখা গেছে।
মনোনয়ন ফরম নিতে আসা নেত্রীরা প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে বলেন, কোনো পরিবার কেন্দ্রিক কোটা বা সুবিধাভোগীদের নয়, দল গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে বলে আমরা আশাবাদী।
এর আগে, গত বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, আর সেই আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।
চূড়ান্ত প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩০ এপ্রিল। এরপর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।
নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াতে ইসলাম জোট ১৩টি, স্বতন্ত্ররা মিলে পাবে একটি আসন।



