মজিবুর রহমান মঞ্জু

সরকার একচ্ছত্র ক্ষমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে

গণভোটে ‘জুলাই চার্টার’ বাস্তবায়ন নিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেছেন, সরকার ক্ষমতা সীমিত না করে বরং নিজেদের একচ্ছত্র ক্ষমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

অনলাইন প্রতিবেদক
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু |নয়া দিগন্ত

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‘জুলাই চার্টার’ বা সনদের মাধ্যমে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে চেয়েছিলাম, যেখানে সরকার তার ক্ষমতাকে নিজের ইচ্ছার অধীন করে বন্দি করবে। কিন্তু সরকার তা করেনি; বরং সরকার তার একচ্ছত্র ক্ষমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

সোমবার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ-সিজিএস।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এই নির্বাচনের ছয় মাস যেতে না যেতেই আমরা দেখতে পাচ্ছি এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আক্রমণ করে বসছে। যেমন- এনসিপির মিছিল বা সমাবেশের ওপর আক্রমণ, কিংবা বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিবিরের ওপর ছাত্রদলের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এগুলো নিয়ে যখন আমরা আলোচনা করি, তখন বলা হয় যে সমালোচনা করার তো একটি নীতি আছে; আপনারা সমালোচনার জায়গায় এত কঠোর বা নোংরা ভাষা ব্যবহার করছেন কেন? এর মানে হলো, আমাদের বিরোধী দল এবং সরকারি দলের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সীমা বা বর্ডার থাকতে হবে। সেই বর্ডার অতিক্রম করলেই আমিও স্বৈরাচারী হয়ে যাব, অথবা বর্ডার অতিক্রম করলেই হাতে লাঠি তুলে নেব। আমার ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সেই নীলকর কবিতার কথা মনে পড়ছে, ‘তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু, ভুষি পেলে খুশি হই, ঘুষি খেলে বাঁচব না।’

মঞ্জু বলেন, আমরা সরকারি দলকে নিয়ে এরকম একটি কবিতা লিখতে পারি, কতটুকু বিরোধিতা করলে আপনারা হাতে লাঠি তুলে নেবেন না? এখানে অনেকেই বলছেন যে আমরা কত স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি এবং সরকার বাহাদুর আমাদের সমালোচনা করার সুযোগ দিচ্ছেন। তাই আমরা সরকারের কাছে আবেদন করতে পারি যে আপনারা আমাদের যতটুকু খুশি দেবেন, আমরা অতটুকু খেয়েই খুশি থাকব; এর বেশি কিছুর জন্য আমরা ঘুষি-টুষি মারতে যাব না, আর আপনারাও আমাদের মারবেন না।

তিনি বলেন, ধরুন, সংসদে থাকা এই ৭০-৮০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য যদি হঠাৎ সবাই পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসেন, তাহলে কী হবে? সরকার যদি মনে করে যে এই সামান্য বিরোধী দলকেও তারা সহ্য করতে পারছে না? যেমন একজন দায়িত্বশীল নেতা এক জায়গায় গিয়ে বলেছেন, আপনারা যদি সরকারি দলকে ভোট না দেন, তবে আপনাদের উন্নয়ন হবে কিভাবে? তাহলে সব ভোট যদি আমরা সরকারকেই দিয়ে দেই, তবে কি আর গণতন্ত্র টিকবে? আমরা কি এই রাষ্ট্রকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব? এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিরোধী দলের সামনে আগামীতে কী কী পথ বা অপশন খোলা আছে, তা আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে।