২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শক্তিগুলোর আবারো দেশে ফেরার ঘোষণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সক্রিয় হয়ে ওঠাকে ‘রাষ্ট্রের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দেয়ার পরদিনই এই প্রতিক্রিয়া জানালেন তাজুল ইসলাম।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল, তারা এখন প্রকাশ্যে দেশে ফেরার তারিখ ঘোষণা করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের সমর্থকদের সক্রিয়তা বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে তারা তারিখ দিয়ে বলে ফেরত আসবে। এই দুঃসাহস তাদের হওয়ার কথা ছিল না। এটি সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।’
সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর আরো বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর প্রথম দেড় বছরে এমন পরিস্থিতি দেখা না গেলেও, গত কয়েক মাসে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর আত্মবিশ্বাস লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা না গেলে এই প্রবণতা আরো বাড়তে পারে।’
বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধের বিচার কেবল দায়ীদের শাস্তির জন্যই নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্যও অপরিহার্য।’
এই বিচার সম্পন্ন করতে না পারলে সমাজে ক্ষোভ ও অস্থিরতা জমতে থাকবে এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র কোনো সংকটে পড়লে মানুষ এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।



