বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে ‘গণহত্যার সরাসরি সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন সরকার পতনের বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা লক্ষ করলাম ওইদিন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের সব ফোন বন্ধ ছিল। কেন সেদিন সবার ফোন বন্ধ ছিল তা জাতির জানা দরকার।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
সিরাজগঞ্জ ৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার কোনো কাজকে অপছন্দ করেননি, নিষেধও করেননি। বরং গণহত্যাসহ সকল কাজে তাকে নির্বিঘ্নে সহযোগিতা করে গেছেন। কাজেই এরকম একজন ব্যক্তিকে আমরা ধন্যবাদ জানাতে পারি না।’
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি একসময় বি চৌধুরীকে সরাতে দেরি করেনি। এখন কেন এরকম একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি রাখা হয়েছে? বিএনপিতে কি রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো লোকের অভাব আছে? এই চপ্পু সাহেবের মধ্যে কী মধু আছে জানি না। এটি বিএনপিই ভালো বলতে পারবে।’
বিএনপির উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘৯১ সালে বিএনপি যখন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তখন জামায়াত নিঃস্বার্থভাবে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করেছিল। ৯৭ সাল থেকে আমরা একসাথে আন্দোলন ও নির্বাচন করেছি। সেই সরকারে জামায়াতের দুজন সফল মন্ত্রীও ছিল। নির্বাচনের পরেই জামায়াত হঠাৎ এত খারাপ হয়ে গেল কেন?’
নিজের ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আমলে আমার দুই পায়ে ও কোমরে লোহার বেড়ি পরিয়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ঘুরানো হয়েছে। আমার ১৬ বছরের ছেলেকে এসএসসির হল থেকে নিয়ে গুম করা হয়েছিল, নির্যাতনের ফলে তার চোখের রেটিনা ছিঁড়ে গেছে।’
বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘লড়াই করেছিলাম বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কিন্তু এখন দেখছি দলীয়করণ শুরু হয়ে গেছে। ডিসি, ভিসি থেকে শুরু করে সব জায়গায় দলীয় ভিত্তিতে প্রশাসক নিয়োগ হচ্ছে। যারা ১৬ বছর নির্যাতিত হয়ে ওএসডি ছিল, তাদের এখনো ওএসডি রাখা হচ্ছে। অথচ ফ্যাসিবাদের দোসররা সুবিধাজনক পোস্টিং পাচ্ছে।’
স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মুগদা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপালকে ঢাকা মেডিক্যাল বদলি করা হলেও জয়েন করতে দেওয়া হয়নি। পরে অন্য জায়গায় দেওয়া হলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী মহোদয় হস্তক্ষেপ করে জয়েন করিয়েছেন। আমার প্রশ্ন হলো—মন্ত্রীর বাইরেও কি এমন কোনো পাওয়ারফুল লোক আছে যারা মন্ত্রীর চেয়েও বেশি ক্ষমতা রাখে?’
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন সরকার পতনের বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু আমরা লক্ষ করলাম ওইদিন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের সব ফোন বন্ধ ছিল। কেবল আমাদের মহাসচিব ও জামায়াত আমির সাহেবের ফোন খোলা ছিল। কেন সেদিন সবার ফোন বন্ধ ছিল তা জাতির জানা দরকার।’
সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংবিধান মানুষের জন্য, মানুষ সংবিধানের জন্য নয়। জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় আমাদের অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। গণভোটের রায় কার্যকর করলেই সকল সমস্যার সমাধান হবে।’



