শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও দলটির নির্বাচন পরিচালনার কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমীন।
আজ বৃহস্পতিবার গুলশানে দলের নির্বাচনী কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মাহদী আমীন বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে আমাদের সবার প্রত্যাশা ছিল এমন একটি নির্বাচন, যেখানে পরিবেশ হবে উৎসবমুখর, সবাই আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসবে, কোনো সঙ্ঘাত থাকবে না। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং দেশের প্রায় সবার বিশ্বাস অনুযায়ী, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ইনশা আল্লাহ বিএনপি বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসবে।
‘সুতরাং আমাদের একটি বড় লক্ষ্য হলো- এই নির্বাচন যেন মুক্ত থাকে, শান্তিপূর্ণ হয় এবং এই নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন কোনো সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। এটি দল হিসেবে বিএনপির জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্যও তেমন গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও শেরপুরে যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কিভাবে সঙ্ঘাত শুরু হলো, কারা সেখানে মদদ দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পারল না- এসব বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের প্রশ্ন রয়েছে।’
তিনি বলেন, এই সঙ্ঘাতে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি যে দলেরই হোক না কেন, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়, কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিএনপিরও ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সঙ্কটাপন্ন ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। যিনি নিহত হয়েছেন, যিনি আহত হয়েছেন- তারা প্রত্যেকেই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন থাকবে, কোনো মারামারি থাকবে না, কোনো কোন্দল থাকবে না, থাকবে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ।
মাহদী আমীন বলেন, আমরা সামগ্রিকভাবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সেই ফ্যাসিবাদী দলে ঘুরে ফিরে যেতে চাই না, যেখানে কোনো কিছু হলে দোষারোপের রাজনীতি হবে, আর কোনো ঘটনা ঘটলেই সেটাকে ঘিরে স্বার্থ হাসিলের নতুন বয়ান তৈরি করা হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত।
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই, সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ চাই, যেখানে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যেকের প্রতি সম্মান বজায় থাকবে। শেরপুরের এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের আর কোথাও না ঘটে- সেজন্য আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। একই সাথে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাব- আপনারা দায়িত্বশীল হোন। গণতান্ত্রিক আচরণ সবাই মিলে বজায় রাখি। যার যেখানে বসার স্থান, সেখানে সবাই বসবেন; যার যেখানে কর্মসূচির অবস্থান, সেখানে তারা সে কর্মসূচি পালন করবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য যদি বজায় থাকে, তাহলে ইনশা আল্লাহ আমরা সবাই মিলে এই নির্বাচনী পথযাত্রায় এক সাথে চলতে পারব এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।



