দেশকে হেফাজত করার জন্য জনগণ সবসময় উঠে দাঁড়িয়েছে : মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রী যে কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করছেন, যে বক্তব্যগুলো রাখছেন, যে কাজগুলো করছেন, তার মধ্য দিয়ে আমরা সেই জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবিকে দেখতে পাই। আমরা বিশ্বাস করি যে তারেক রহমান তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সেদিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

অনলাইন প্রতিবেদক
বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজার স্মৃতি মনে করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনো মনে আছে প্রেসিডেন্ট সাহেবের যখন জানাজা হয়, অভাবনীয়- লক্ষ লক্ষ মানুষ। জানাজার নামাজের পর লালবাগের হুজুর যখন দোয়া করছিলেন, দোয়া করতে করতে সবশেষে এই কথাটা বললেন, ‘আল্লাহ, বাংলাদেশকে হেফাজত করুন।’ তখন বাংলাদেশের মানুষ ওই জানাজার মধ্যে আরেকবার ডুকরে কেঁদে উঠেছিল। এই জন্য যে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব আর তার অস্তিত্ব একাকার হয়ে গিয়েছিল। মানুষ আতঙ্কিত হয়েছিল, জিয়াউর রহমানের পরে সেটা থাকবে কিনা। আল্লাহর অশেষ রহমত, আমি বলব বাংলাদেশের মানুষ কখনো সেখান থেকে সরে যায়নি। তারা বাংলাদেশকে হেফাজত করার জন্য সবসময় উঠে দাঁড়িয়েছে। যেমন জুলাই চব্বিশে আবার উঠে দাঁড়িয়েছে এবং বাংলাদেশকে আবার নতুন করে একটা শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ-পিআইবি’তে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিগুলো তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করছেন, যে বক্তব্যগুলো রাখছেন, যে কাজগুলো করছেন, তার মধ্য দিয়ে আমরা সেই জিয়াউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আমরা বিশ্বাস করি যে তারেক রহমান তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সেদিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান এমন একজন পুরুষ, একজন মানুষ, এমন একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন, যিনি দেশের প্রয়োজনে- যাকে কেউ চিনতো না, যাকে অখ্যাত মেজর বলে আপনার আওয়ামী লীগের তাকে বিদ্রুপ করত- সে অখ্যাত মেজর হঠাৎ করে যখন গোটা দেশের মানুষ প্রত্যাশা করছিল যে একটা ঘোষণা আসবে, যুদ্ধের জন্য ঘোষণা আসবে, তাহলে নেতার কাছ থেকে, সেটা যখন এলো না, তখন এই অখ্যাত মেজর হঠাৎ করে চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করলেন।

‘কেন? এই বাংলাদেশের মানুষ তখন একেবারেই একমত হয়ে গিয়েছিল যে পাকিস্তানের সাথে আর থাকা যাবে না, বেরিয়ে আসতে হবে এবং তার জন্য যুদ্ধ করতে হবে। এবং সেই যুদ্ধটা শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে একটি প্রশ্নে সবাই একটা দলকে যে ভোট দিয়ে বসে থাকল, সে দলের জন্য না, মানুষের আকাঙ্ক্ষার কারণে। মানুষ তখন পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম একজন সংগঠক হিসেবে। খুব কাছাকাছি মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি, ভয়াবহতা দেখেছি। দেখেছি কিভাবে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, কিভাবে হত্যা করেছে, কিভাবে নারীদের উপর নির্যাতন করেছে, এটা খুব কাছ থেকে দেখেছি। সেই কারণে ওই বর্বরতাকে কখনো ক্ষমা করতে পারি না। যে কারণে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সাথে আর অন্য কোনো কিছুর সাথে মেলাতে পারি না।

মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার কাছে একজন অনন্য পুরুষ, ক্ষণজন্ম পুরুষ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্ন নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট সবচেয়ে বড় কাজটি করেছেন, যেটা সবাই বলেছেন, যে বাংলাদেশের জন্য এই ভূখণ্ডের এই মানুষগুলোকে একটা স্বকীয়তা দিয়েছেন, পরিচিতি দিয়েছেন, আইডেন্টিটি দিয়েছেন যে আমরা আলাদা, আমরা আমরা, ওদের সাথে এক নই। আমাদের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ভিন্ন, যেটা আমরা বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মধ্যে আমরা দেখি।

তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিনিধিত্ব করে একটা উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সবসময় যে কথা বলি, জোর দিয়ে বলি যে বিএনপি ইজ এ পার্টি অব লিবারেল ডেমোক্রেসি। আমরা উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। সেই উদার গণতন্ত্রকে আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা এখানে অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এমন সময় জিয়াউর রহমান এসেছিলেন এই রাজনীতির সামনে, যখন গোটা বাংলাদেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল। একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি, একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামো মানুষের চিন্তাভাবনা। রক্ষীবাহিনী বিভিন্নভাবে এসে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সেখানে জিয়াউর রহমান সাহেব এসে সেটাকে আবার সেই ধ্বংসের মধ্যে নতুন করে, কোনো বিভক্তি করে নয়, সমস্ত রাজনৈতিক চিন্তা একভাবে চিন্তা; দলগুলোকে নিয়ে তিনি প্রথমে জাগদল (জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল) করেছেন, ফ্রন্ট করেছেন, তারপরে বিএনপি করেছেন। মূল বিষয়টাই ছিল সবাইকে নিয়ে রিকনসিলিয়েশন করা, সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। প্রেসিডেন্ট অতি অল্প সময়ের মধ্যে যে পথ আমাদের দেখিয়েছেন, সেই পথটাই পথ।