মিয়া গোলাম পরওয়ার

জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের দ্বিচারিতা রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করছে

‘রাষ্ট্রপতির সংবিধান সংস্কার আদেশ জারি হয়েছে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর। এরপর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন হলো, তখন আপনারা বলেননি যে রাষ্ট্রপতির আদেশ বা সংবিধান সংস্কার কমিশন মানি না। আপনারা তখন চুপচাপ ছিলেন।’

নিজস্ব প্রতিবেদক

Location :

Dhaka
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার |ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিজেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছিলেন। তবে এখন কেন ৬৯-৭০ পারসেন্ট জনমতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তা বাতিল করছেন? আপনারা জনগণের সাথে প্রতারণা ও দ্বিচারিতা করছেন, যা দেশকে রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘৮৪টি ও ঐক্যবদ্ধ ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের প্রত্যেকটিতে পাঁচ কোটি মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সমর্থন দিয়ে ভোট দিয়ে তা মেনে নিয়েছিলেন। আপনারা সমর্থন দিয়েছেন, এখন কেন সেই অর্ডিন্যান্স বাতিল করেছেন?’

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শেরপুরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বগুড়ার উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী শাখা।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবিধান সংস্কার ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেয়ার জন্য ঐক্যমত্য কমিশনে নয় মাস ধরে গণভোট, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেয়া হয়েছিল এবং তখন কেউ কোনো আপত্তি জানায়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্রপতির সংবিধান সংস্কার আদেশ জারি হয়েছে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর। এরপর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন হলো, তখন আপনারা বলেননি যে রাষ্ট্রপতির আদেশ বা সংবিধান সংস্কার কমিশন মানি না। আপনারা তখন চুপচাপ ছিলেন।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরই সরকার ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্বশীলদের মতো আচরণ শুরু করেছে এবং জনমতকে বাতিল করতে চাচ্ছে।’

সঙ্কট নিরসনে মিয়া গোলাম পরওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,​‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে চলমান অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করুন।​রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করুন।​গণভোটের রায় অনুযায়ী পুরো ‘জুলাই সনদ’ সংস্কার প্রস্তাব হিসেবে উত্থাপন ও অনুমোদন করে সংবিধানের তফসিল আইন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করুন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই সঙ্কটকে রাজপথে নিতে চাইনি, পার্লামেন্টে সমাধান চেয়েছি। কিন্তু যখন আপনারা আইন করে গণভোট, গুম-খুনের আইন ও মানবাধিকার আইন বাতিল করেন এবং রাষ্ট্রপতির আদেশ মানেন না, তখন জনগণের রায় রক্ষায় রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ থাকে না।’

​১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি প্রসঙ্গ​সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ৯ তারিখ থেকে এক সপ্তাহব্যাপী প্রচারপত্র বিলি, মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ, জাতীয় সেমিনার ও জুলাইযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময়সহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্য জোটের শীর্ষ নেতারা বসবে, আলোচনা করবে। জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে গণভোটের ফলাফলকে কার্যকর করা ছাড়া এ জাতির সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।’

সরকারি দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সঙ্কট আপনারা তৈরি করেছেন, এই সঙ্কটের সমাধানও আপনাদের করতে হবে।’

বগুড়া ও শেরপুরের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেখানে জাল ভোট ও কেন্দ্র দখল হয়েছে। এই নির্বাচনের প্রহসনমূলক ফলাফল বাতিল করে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দিন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনুন।’

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মিছিলটি বগুড়া ও শেরপুরের ভোট ডাকাতি ও হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে শেষ হয়।