মুফতি ফয়জুল করীম

রাসূল সা:-এর আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া ধর্ষণ-হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না

‘এসব ঘটনা একটা-দুইটা নয়; অহরহ ঘটছে। দেশের মধ্যে হজরত মুহাম্মদ সা:-এর আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া ধর্ষণ, হত্যা, গুম, খুন ইত্যাদি- এসব বন্ধ করা সম্ভব হবে না।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে দায়িত্বশীল সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করছেন মুফতি ফয়জুল করীম
সিলেটে দায়িত্বশীল সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করছেন মুফতি ফয়জুল করীম |ছবি : নয়া দিগন্ত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন, দেশে যে হারে খুন-ধর্ষণ অপহরণ ছিনতাই চাঁদাবাজি বাড়ছে তা উদ্বেগজনক। শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সবাইকে কাঁদিয়েছে। সিলেটের ৪ বছরের শিশু ফাহিমাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনা একটা-দুইটা নয়; অহরহ ঘটছে। দেশের মধ্যে হজরত মুহাম্মদ সা:-এর আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া ধর্ষণ, হত্যা, গুম, খুন ইত্যাদি- এসব বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সিলেটের সারদা হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশ রয়েছে ঋণের ওপর, অর্থনীতি ভঙ্গুর। এর মধ্যে উচ্চবিলাসী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। এই বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে সরকারকে সারাবছর দেশী-বিদেশী খাত থেকে ঋণ নিতে হবে। এদিকে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সাথে সম্পর্ক ভালো নয়। অপরদিকে দেশের ব্যাংকখাত বিপর্যস্ত। এই হিসাবে এত উচ্চবিলাসি বাজেট কাম্য নয়।

তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার আগেই দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়। দেখবেন সরকার অনেক উন্নয়নের কথা বলবে। কিন্তু চারিত্রিক উন্নয়নের কথা কখনো বলবে না। কারণ, তারা চারিত্রিক উন্নয়নে কাজ করে না। আর আমাদের প্রধান কাজ হলো মানুষের চারিত্রিক উন্নয়ন সাধন।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি দেশের মানুষ চারিত্রিক উৎকর্ষে বলিয়ান হবে। আত্মশুদ্ধ একটা জাতি তৈরি হবে। তখনই দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত একদল কর্মী বাহিনী তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কাজ করছে চরিত্রবান আল্লাহ ভীরু মানুষ তৈরি করার জন্য। যার জন্য দরকার একদল প্রশিক্ষিত দক্ষ চরিত্রবান ত্যাগী নেতৃত্বের। ইসলামী আন্দোলনের সকল স্তরের নেতৃত্বকে সেইভাবে সাজাতে হবে। যারা দেশ জাতি ও মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ থাকবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি ডা: রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা ইমাদ উদ্দিন ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি আবু তাহের মিসবাহর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান এলএলবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আলহাজ নজীর আহমদ, জেলা সভাপতি মুফতী সাঈদ আহমেদ, বক্তব্য রাখেন জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ সিলেট মহানগর সভাপতি হাফেজ মাওলানা আসাদ উদ্দিন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম মহানগর সভাপতি প্রভাষক বুরহান উদ্দিন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা সভাপতি আলহাজ ফজলুল হক, ইসলামী যুব আন্দোলন সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা বদরুল হক, মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ জাকাওয়াত হোসেন প্রমুখ।