মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণ কোনো টালবাহানা মেনে নেবে না

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘জনগণ সরকারের কোনো টালবাহানা কোনোভাবেই মেনে নেবে না বরং গণভোটের রায় দাড়ি-কমা সহ অবিকৃতভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারকে বাধ্য করবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Dhaka City
রাজধানীর গুলশানের আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন মিলনায়তনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
রাজধানীর গুলশানের আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন মিলনায়তনে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘জনগণ সরকারের কোনো টালবাহানা কোনোভাবেই মেনে নেবে না বরং গণভোটের রায় দাড়ি-কমা সহ অবিকৃতভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারকে বাধ্য করবে।’

ইসলামী আন্দোলনের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবলা এবং ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইউনিট দায়িত্বশীল সহ সকল স্তরের জনশক্তিকে যোগ্যতর ও কর্মতৎপর হিসাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি আজ রাজধানীর গুলশানের আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের গুলশান পশ্চিম থানা আয়োজিত এক ইউনিট প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

থানা আমির মাহমুদুর রহমান আজাদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ইসমাঈল হোসাইনের পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ও গুলশান জোন সহকারী পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ।

উপস্থিত ছিলেন থানা শূরা ও কর্মপরিষদের সদস্য বৃন্দ, ওয়ার্ড সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, ইউনিট সংগঠনই হচ্ছে মূল সংগঠনের চালিকা শক্তি। আর অধঃস্তন সংগঠনই মূল সংগঠনকে যোগ্য জনবল সহ প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করে। তাই চলমান শতাব্দীর জাতীয় সহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউনিট সংগঠনগুলোকে আরো গতিশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে আরো সুসংগঠিত ও কার্যকর করার জন্য যথাযথ পরিকল্পনা সহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের বড় দাবি। সে ক্ষেত্রে দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের কোন বিকল্প নেই। কেউ যাতে দাওয়াতের বাইরে না থাকে এজন্য ইউনিট দায়িত্বশীলদের সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার।

তিনি দ্বীন বিজয়ের প্রত্যয়ে ইউনিটগুলোকে ইসলামী আন্দোলনের দুর্গে পরিণত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বায়ক জানান।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব ও সনদ আমাদের জাতীয় জীবনের বড় অর্জন। অনেক ত্যাগ ও কোরবানীর মাধ্যমে আমাদের এ বিজয় এসেছে। হাজার হাজার তরতাজা প্রাণের বিনিময়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। মূলত, জুলাই সনদ হচ্ছে আমাদের জাতীয় মুক্তির মহাসনদ। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর সবকিছু ভুলে যেতে বসেছে। তারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারি হয়ে ওঠার হীন মানসিকতায় জুলাই সনদ ও গণরায়কে অবজ্ঞা করতে শুরু করেছে। কিন্তু এ জনগণ সরকারের কোন টালবাহানা কোনোভাবেই মেনে নেবে না বরং গণভোটের রায় দাড়ি-কমা সহ অবিকৃতভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারকে বাধ্য করবে।

তিনি জুলাই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকারের গণবিরোধী যেকোন অপতৎপরতা মোকাবেলায় সকলকে আবারো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।