গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিরোধী দলকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে : ফখরুল

‘তারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, অবশ্যই তারা বিরোধিতা করবেন এবং যে ভুলগুলো সরকার করবে, সেগুলোকে দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু সেটা পার্লামেন্টের মধ্যে হলেই গণতান্ত্রিক পরিবেশটা ঠিক থাকে।’

অনলাইন প্রতিবেদক
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, কার্যকর করতে হলে বিরোধী দলকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পজেটিভ বার্তা দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাকে (তারেক রহমান) পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করা হলে গণতন্ত্রকে সেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব হবে না।’

সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এর আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে, কার্যকর করতে হলে বিরোধী দলকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। তারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, অবশ্যই তারা বিরোধিতা করবেন এবং যে ভুলগুলো সরকার করবে, সেগুলোকে দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু সেটা পার্লামেন্টের মধ্যে হলেই গণতান্ত্রিক পরিবেশটা ঠিক থাকে। দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা সেই আগের মতোই শুরু করেছি যে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছি। এতে আপত্তি নেই, এটা গণতান্ত্রিক রীতি। কিন্তু সেটা এমন এক পর্যায়ে যেন না যায়, যে পর্যায়ে গিয়ে একটা সংঘাত তৈরি হয়। এটা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। আমরা অবশ্যই নিন্দা জানাই, যে সমস্ত জায়গাগুলোতে দুয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, এটা নিন্দনীয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এটাও আমরা মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাসিত জীবন থেকে ফিরে এসে পজিটিভ বার্তা দিচ্ছেন। মানুষটাকে কিন্তু আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। আমরা যদি এখন শুধুমাত্র নেগেটিভ কথা বলে তাকে আরো পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করি, তাহলে কিন্তু গণতন্ত্রকে আমরা সেভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সক্ষম হব না।’

‘আমরা যদি পজিটিভ দিক দেখে কাজ করি। আর সরকারকে যেন সময় দেই, যাতে কাজগুলো যাতে ঠিকমতো করা যায়,’ বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সরকারে এসে চেষ্টা করছি জুলাইয়ের ঘোষণার প্রতিটি অংশ, প্রতিটি অক্ষর—যেখানে আমরা স্বাক্ষর করেছি, তা পালন করতে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। অনেকগুলো কাজ হয়েছে, পার্লামেন্টে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে—জুলাই সংবিধান সংশোধনী কমিটি (অ্যামেন্ডমেন্ট কমিটি)। এখানে এখন বিতর্ক শুরু হয়েছে শব্দ নিয়ে—ওটা ‘সংস্কার’ হবে নাকি ‘সংশোধন’ হবে? অলরাইট, আসুন আমরা আলোচনা করি, পার্লামেন্টে আলোচনা করি। আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেই, কথা বলি কোন কোন জায়গায় আলোচনা আছে।”

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। বলেন, “হাসিনা যেমন বলতেন, ’৯১ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পর, ‘পাঁচ বছরের একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবো না’। আজকে একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন আমাদের (বিরোধী) নেতারা।”

ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নেতা হাসান হাফিজ, কবি আবদুল হাই শিকদার, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।