জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদরাসা ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, অস্ত্র প্রদর্শন, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। পাশাপাশি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে করে। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, বহিষ্কার ও বিচারসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। আগামীকাল বুধবার সকাল ৯টায় শহীদ মিনার থেকে রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত ছাত্র-গণজমায়েতের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তা হুমকির মুখে ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলাকালে আবাসন সঙ্কট ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরসহ বিভিন্ন দাবির পোস্টার নিয়ে শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, এজিএস মাসুদ রানা, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
শিবিরের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, আহত জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফকে মারধরের পর তার চোয়ালের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়েছে। এছাড়া হামলাকারীরা ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ ছাত্রদলের হাতে থাকবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর আহতরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও দ্বিতীয় দফায় হামলা হয়। হামলাকারীরা রোগী ও স্বজনদের মারধর এবং মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে দাবি করা হয়। একই ঘটনায় একজন আইনজীবীও হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানানো হয়।
ঢাকা কলেজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই শহীদদের জন্য দোয়া ও আহতদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় অস্ত্র প্রদর্শন, ব্যানার ছিনিয়ে নেয়া এবং কয়েকজন শিবির নেতাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ করা হয়। ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালিক হামলায় আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
এছাড়া নিউমার্কেট ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় পথচারী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও করা হয়।
ঢাকা আলিয়া মাদরাসা প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বহিরাগতদের নিয়ে হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের কক্ষ থেকে বের করে দেয়া এবং হলে তালা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও ৩ আগস্ট ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে হামলা ও স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। পরদিন বহিরাগতদের নিয়ে আবারো ক্যাম্পাসে হামলার চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলে শিবির।
ছাত্রশিবির সভাপতি অভিযোগ করে, এসব হামলায় পুলিশ ও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেছে। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ভাঙচুর এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও আহত ছাত্রশিবির নেতাদের ওপরে হামলা করলে কোনো প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির সভাপতি এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় হামলাকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে ভবিষ্যতে ছাত্র-জনতা এর জবাব দেবে। একইসাথে তিনি ছাত্রদল ও যুবদলের লাগাম টেনে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়ে বক্তা বলেন, প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে দেয়া হলে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কাজ সম্পন্ন হবে বলে তারা মনে করেন। এ দাবিকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পাঁচ দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—
১. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও বহিষ্কার।
২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা ও অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেয়ার ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
৩. আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা।
৪. হল খুলে দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ দেয়া।
৫. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।



