ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি যুক্তি উপস্থাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে এ বিতর্ক হয়।
বিরোধী দলকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সহযোগিতা করলে আসনের সংখ্যানুপাতে স্থায়ী কমিটিতে ‘পাক্কা হিস্যা’ দেয়া হবে। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিভিন্নভাবে হতে পারে। একতরফা করলেও আমরা রাগ করবো না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারস্টিার কায়সার কামাল।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সংসদে আমরা ৩৪৯ জন সদস্য এখন আছি। একটা সিট খালি আছে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে যখন থাকেন, আইদার পজিটিভ অর নেগেটিভ; সংসদ খুব প্রাণবন্ত থাকে। উনি থাকলে বাকি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তারা না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই।’
স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে বিরোধী দলকে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কালকে বলেছেন যে অতীতে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দল থেকে স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি দেয়ার কোনো নজির নাই—এটা উনি ঠিকই বলেছেন। একটা ছাড়া সেটা হলো নবম জাতীয় সংসদ। যেখানে বিরোধী দলে আমরা মাত্র দুইজন ছিলাম, আপনারা ২৪ জন ছিলেন, টোটাল অল টুগেদার ২৬ জন ছিলেন। সেখানে কিন্তু বিরোধী দল থেকে দুইজন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। সুতরাং আছে।’
তিনি বলেন, তবে আমি এইজন্য তাকে দোষী বলছি না, কারণ ওই সংসদে উনি ছিলেন না। কিন্তু নজির আছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘উনি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। তো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিভিন্নভাবে হতে পারে। একতরফা করলেও আমরা রাগ করবো না। আমরা এটার বাস্তবায়নটা চাচ্ছি।’
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যাকে সভাপতি করা হতো, সেই ট্রাডিশনটা আমরা ফলো করে মাননীয় বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে আমরা সেই কমিটির সভাপতিত্ব ইতোমধ্যে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এখন তিনি (বিরোধীদলীয় নেতা) দাবি করছেন যে জুলাই জাতীয় সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি। এটা তো আমাদের প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার। কিন্তু আমরা বলেছি যে আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসুন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে। সংবিধান সংশোধিত হবে। একইভাবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে আসনের সংখ্যানুপাতে আপনারা স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতিত্ব পাবেন। এগুলো সবই হবে।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা শুভসূচনা করুন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আপনারা অংশগ্রহণ করুন। যা বক্তব্য আছে সেখানে দিন। আমরা এই ওয়াদা জাতীয় সংসদের এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দিতে পারি, যথাশিগগির সম্ভব আমরা সেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আসি, যাতে করে তাড়াতাড়ি কার্যকর করা যায় এবং সংসদের উচ্চকক্ষ স্থাপন করা যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা এখানে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে একেবারে পাক্কা হিস্যা এখন থেকে চাইবেন, সহযোগিতায় আসবেন না—দুইটা তো একসাথে যায় না। আমরা তাই আহ্বান করছিলাম। আসুন আমরা একসাথে বসে সংবিধান সংশোধন করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করি। অ্যাকরডিংলি আপনারা সবকিছু পাবেন। এটাই সহযোগিতা।’
সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনারা সংস্কার বলুন, আমরা সংশোধনী বলি—কথা তো একই। কিন্তু এটা করতে হবে তো জাতীয় সংসদে। এটাই ছিল আমাদের আহ্বান। আপনারা বাইরের রাজনীতিতে যাই বক্তৃতা দেন না কেন, এখানে তো আমাদেরকে সবাই একসাথে বসে তর্কের মধ্য দিয়ে এটা নিতে হবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। দয়া করে সেটা অনুধাবন করলে ভালো।’
বস্ত্র ও পাট কমিটির সভাপতি হুইপ আখতারুজ্জামান
এদিকে, সরকারদলীয় হুইপ মো: আখতারুজ্জামান মিয়াকে সভাপতি করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
কমিটির সদস্যরা হলেন—মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (সংসদ সদস্য হলে), প্রতিমন্ত্রী শরীফুর আলম, সরকারদলীয় এমপি এস এম ফয়সল, নাছির চৌধুরী, মো: আব্দুল্লাহ, রেজেকা সুলতানা এবং বিরোধী দলের সদস্য আফজাল হোসেন, হাফেজ মুহা: রবিউল বাশার ও মাহবুবা হাকিম।
জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এবং ১১টি সংসদ বিষয়ক। এখন পর্যন্ত ২৬টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কোনোটির সভাপতির পদে বিরোধী দলের সদস্যকে রাখা হয়নি। অন্যদিকে, সংসদ-সম্পর্কিত ছয়টি কমিটির মধ্যে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে।



