সার্ককে কার্যকর করতে বহুমাত্রিক অ্যাকশন প্ল্যানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

‘সার্কভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং বৈঠকগুলোতে সার্কের পুনর্জাগরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল অ্যাজেন্ডা হিসেবে উত্থাপন করা হচ্ছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান |ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) কার্যক্রম পুনরায় সচল ও গতিশীল করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক অ্যাকশন প্ল্যান প্রস্তুতের পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, ‘সার্কভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং বৈঠকগুলোতে সার্কের পুনর্জাগরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল অ্যাজেন্ডা হিসেবে উত্থাপন করা হচ্ছে।’

বুধবার (১৭ জুন) সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারি দলের সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সার্কের মহাসচিবের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকালে সংস্থাটির স্থবিরতা কাটিয়ে এটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে আরো সক্রিয়, দৃশ্যমান ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরামর্শ ও তাগিদ দেয়া হয়েছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার, যা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা, আস্থা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো জনগণকেন্দ্রিক ও ফলপ্রসূ করে তুলতে বাংলাদেশ বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক উভয় পর্যায়েই সক্রিয় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছে এবং বাণিজ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্বালানি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করেছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আস্থা এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে তাদের আগ্রহ নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের সংসদের স্পিকার, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যমবিষয়ক মন্ত্রী নিজ নিজ দেশের পক্ষে অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাসস