জুনে বিজিবির অভিযানে ৩০৭ কোটি টাকার পণ্য জব্দ

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত জুন-২০২৬ মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ৩০৭ কোটি ৬৫ লাখ ১১ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি ৫৯২ গ্রাম স্বর্ণ, ১৮ হাজার ১৫টি শাড়ি, ৩ হাজার ২৫২টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ৯ হাজার ৫৫১টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৮টি কসমেটিকস সামগ্রী, ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ পিস আতশবাজি, ৭ হাজার ৪৬৪ ঘনফুট কাঠ, ৭ হাজার ৩১৬ কেজি চা-পাতা, ৪ হাজার ২৭০ কেজি সুপারি, ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ কেজি কয়লা, ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯৮ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৪৯৭টি মোবাইল ফোন, ১ হাজার ৮৬৫টি মোবাইল ডিসপ্লে, ৪১ হাজার ১৬২টি মোবাইল যন্ত্রাংশ, ১৫ হাজার ৫৬টি বৈদ্যুতিক সামগ্রী, ২২ হাজার ৬১২টি চশমা, ৫২ হাজার ৭৩৬ কেজি জিরা, ৪ হাজার ২৮৫ কেজি রসুন, ১৮ হাজার ৭৯৮ কেজি চিনি, ১০ হাজার ২২৪ কেজি সার, ১১ লাখ ৪১ হাজার ১৬৯টি চিংড়ি মাছের পোনা, ৩ হাজার ২৮২ লিটার ভোজ্য তেল, ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও মবিল, ২ হাজার ২৭৬ প্যাকেট কীটনাশক, ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪১৯ পিস বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ৬৯৪ কেজি বিভিন্ন ধরনের বীজ এবং ১ হাজার ২৩৯টি যানবাহনের যন্ত্রাংশ।

এছাড়া আরো উদ্ধার করা হয়েছে ১১টি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, পাঁচটি পিকআপ, তিনটি প্রাইভেটকার ও বাস, তিনটি ট্রাক্টর, ২০টি ট্রলি ও মাইক্রোবাস, ৬৮টি সিএনজি, ইজিবাইক ও অটোরিকশা, ৩৫টি মোটরসাইকেল এবং ৫৩টি বাইসাইকেল ও ভ্যান।

বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আটটি দেশী ও বিদেশী পিস্তল, একটি রাইফেল, ১৬টি ম্যাগাজিন, ৬৩০ রাউন্ড গোলাবারুদ, দুইটি মাইন, ছয়টি গ্রেনেড এবং ছয়টি অন্যান্য অস্ত্র।

গত মাসে বিপুল পরিমাণ মাদকও জব্দ করেছে বাহিনীটি। উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৫২ পিস ইয়াবা, ১৮ কেজি ১৫০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ৬০৭ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪২২ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৮ বোতল বিদেশী মদ, ৩৯৫ লিটার বাংলা মদ, ৩ হাজার ২৬৮ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ৭১০ কেজি ৪৭০ গ্রাম গাঁজা, ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, ২৪ হাজার ২০১ বোতল বিভিন্ন ধরনের সিরাপ এবং ৮২ হাজার ৭১৫ পিস বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও ট্যাবলেট।

এ সময় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানের অভিযোগে ২১২ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে ৪৭ জন বাংলাদেশী, একজন ভারতীয় এবং ২৮৪ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।