নগরের খেলার মাঠ ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের খেলাধুলার মান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে শিশুরা খেলার মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে। ইতোমধ্যে ঢাকার অধিকাংশ পার্ক ও মাঠ উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘খেলার মাঠ ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।’

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের খেলাধুলার মান ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে শিশুরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে। ইতোমধ্যে ঢাকার অধিকাংশ পার্ক ও মাঠ উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের তারকা চিহ্নিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পার্ক ও খেলার মাঠসমূহে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ, প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন, সিসি টিভি স্থাপন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডিএনসিসির মালিকানাধীন যে ৩৮টি পার্ক, খেলার মাঠ, উম্মুক্ত স্থান রয়েছে তা বর্তমানে দখলমুক্ত রয়েছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ২০টি পার্ক, চারটি খেলার মাঠ, দু'টি শিশু পার্ক এবং দু'টি ঈদগাহ মাঠ উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও রাজউকসহ অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন অবশিষ্ট ১৫১টি পার্ক, খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, ঈদগাহ মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন খেলার মাঠ বা পার্কসমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও খেলার মাঠ ও পার্কসমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অধিক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। এসব খেলার মাঠ ও পার্কসমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।’

বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন খেলার মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থিত মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্থান পার্ক), মতিঝিল পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, ওসমানী উদ্যান, যাত্রাবাড়ী শিশু পার্ক, ইসলামবাগ বশির উদ্দিন পার্ক, শাহবাগ শিশু পার্ক, হাজী আব্দুল আলীম খেলার মাঠ, রসুলবাগ পার্ক খেলার মাঠ, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাসাবো খেলার মাঠ (শহীদ আলাউদ্দিন পার্ক), সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠ, দক্ষিণ গোড়ান সুলতান ভূঁইয়া ঝিলপাড় খেলার মাঠ, বাসাবো বালুর মাঠ, দক্ষিণ বাসাবো, গজমহল শিশু পার্ক, হাজারীবাগ পার্ক, আমলীগোলা খেলার মাঠ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।’

তারেক রহমান বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় খুবই অল্প সংখ্যক খেলার মাঠ রয়েছে। তবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আওতায় খেলার মাঠ আছে। উক্ত মাঠসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি কর্পোরেশন কিছু আর্থিক বরাদ্দ ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আটটি জোনে আটটি খেলার মাঠ এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’

এছাড়া ময়মনসিংহ, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনগুলোর খেলার মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত করে খেলার উপযোগী ও পার্কের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে, বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সাতজন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাব দেন।

সূত্র : বাসস