ভূমি অধিগ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ।
বুধবার রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশে ভূমিসেবা ও ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন’ বিষয়ক অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।
সালেহ আহমেদ বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া মানুষের জীবিকা, সম্মান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আবেগের সাথে গভীরভাবে জড়িত। এ প্রক্রিয়ায় সময়সাপেক্ষতা ও জটিলতা পরিহার করে দক্ষতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিকতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকার এখন এডহক এপ্রোচ থেকে বেরিয়ে এসে একটি নিয়মতান্ত্রিক ডিজিটাল ভূমি অধিগ্রহণ কাঠামো প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও ভূমি হুকুম দখল বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত সম্পন্ন করেছে। একই সাথে, ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে পৌঁছে দিতে একটি ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানি হ্রাস পাবে এবং ভূমি অধিগ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরো শক্তিশালী হবে।
এই মতবিনিময় কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো একটি অধিকতর দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কর্মশালায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য একটি প্রমিত পরিচালন পদ্ধতি বা এসওপি উপস্থাপন করা হয়। সবার মতামতের আলোকে এই এসওপি চূড়ান্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আরো সহজ, দ্রুত ও জনবান্ধব হবে, যা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো: এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি শ্রী কুমার তাদিমাল্লা, ডং কিউ কোয়াক এবং মো: আক্তারুজ্জামান। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, সুশীল সমাজ, বেসরকারি সংস্থা এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : ইউএনবি



