সাবেক মন্ত্রী রুহুল হক ও ছেলের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

‘রুহুল হকের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
দুর্নীতি দমন কমিশন
দুর্নীতি দমন কমিশন |সংগৃহীত

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ড. আ ফ ম রুহুল হক এবং তার ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদক প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো: তানজির আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, রুহুল হকের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে ১১৬ কোটি ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে রুহুল হকের নামে মোট ৪৫ কোটি তিন লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা মূল্যের সম্পদ ও পারিবারিক এবং অন্যান্য ব্যয়সহ নীট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় ৪৫ কোটি তিন লাখ ২৫ হাজার ৭৫৭ টাকা। এর বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৭ টাকা।

দুদক জানায়, রুহুল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ৩৯টি হিসাবে ৬৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা এবং ৫১ কোটি ৪৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৮০ টাকা উত্তোলন করা হয়। এসব হিসাবে বর্তমানে ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৯৯ টাকা স্থিতি রয়েছে।

অপরদিকে, রুহুল হকের ছেলে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে আট কোটি ৫২ লাখ ৮৪ হাজার ৮২০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জিয়াউল হকের নামে স্থাবর ও অস্থাবরসহ মোট ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৩ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া যায়। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার নীট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪৫৮ টাকা। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ১৬ কোটি ৬৩ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৮ টাকা।

দুদক সূত্র আরো জানায়, জিয়াউল হকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত ১৫টি হিসাবে ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৭ টাকা জমা এবং ১৫ কোটি ৯৭ লাখ এক হাজার ৪৭৬ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে বর্তমানে এক কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার ৩৬১ টাকা স্থিতি রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে এসব অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বারবার জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে লেয়ারিং করে অর্থের উৎস গোপন এবং বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।

এসব ঘটনায় ড. আ ফ ম রুহুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান পৃথক দু’টি মামলায় বাদী হিসেবে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসব অভিযোগের অনুসন্ধান করেন। বাসস