সংবাদ সম্মেলনে ডিজি

নিরাপদ ঈদযাত্রায় নানামুখী প্রস্তুতি নিয়েছে কোস্টগার্ড

‘সদরঘাটে বা মাঝ নদীতে ছোট নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা করাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। টহল দলগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে যাতে কেউ এই ধরনের অপচেষ্টা না করতে পারে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল মো: জিয়াউল হক
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিয়ার অ্যাডমিরাল মো: জিয়াউল হক |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়ার অ্যাডমিরাল মো: জিয়াউল হক বলেছেন, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সদরঘাটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, আনসার এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তবে এক্ষেত্রে যাত্রী সাধারণের সচেতনতা খুবই প্রয়োজন।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঈদুল আজহা উপলক্ষে নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক বলেন, ঈদ উৎসবের এই সময়ে নদীপথে যাত্রী পরিবহনের বিশাল চাপের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা। যার অংশ হিসেবে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো জায়গা থেকে লঞ্চে আরোহণ বা অবরোহণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লঞ্চের ভেতরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফেরিঘাট ও লঞ্চ ঘাটগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তা তদারকি করা হচ্ছে। শুধুমাত্র সদরঘাটেই নয়, বরং সদরঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত সমগ্র রুটেই কোস্ট গার্ডের পেট্রোল বা টহল দল এবং বিভিন্ন স্টেশন ও আউটপোস্ট সক্রিয় রয়েছে।

আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুবাহী ট্রলার বা লঞ্চের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি পশু পরিবহনের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বিবেচনা করে লঞ্চ মালিক ও চালকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে বৈরী আবহাওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মো: জিয়াউল হক আরো বলেন, সদরঘাটে বা মাঝ নদীতে ছোট নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা করাকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। টহল দলগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে যাতে কেউ এই ধরনের অপচেষ্টা না করতে পারে।

কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক আরো বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রী চলাচল ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কোস্ট গার্ড বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢাকা, বরিশাল, ভোলা, মোংলা, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, খেয়াঘাট ও নৌরুটে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার এবং যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলায় কোস্ট গার্ড ডুবুরী দল প্রস্তুত রয়েছে।

পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএ কন্ট্রোলরুমে কোস্ট গার্ড প্রতিনিধি কর্তৃক সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশি, যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিংসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা নিতে কোস্ট গার্ড জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, শুধুমাত্র জনবল দিয়ে এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করা কঠিন; এজন্য যাত্রীদের ব্যক্তিগত সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। ডিমান্ড বা চাহিদা না থাকলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনের সাপ্লাইও বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।