মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে : স্বরাষ্ট্র সচিব

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬
অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ |নয়া দিগন্ত

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন, ‘অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। নতুন আইনে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য তদন্ত সংস্থা বা ইউনিটের সদস্যরা তদন্ত, মানব পাচারকারীদের ব্যাংক হিসাব নিষ্ক্রীয় করা, সম্পদ আটকসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি মানুষের মাঝে প্রচার করতে হবে। যাতে করে আইনের ভুল ধারায় কেউ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়।’

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬’ বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’র সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।

মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ এই সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইন প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ২০০০ সালে গৃহীত জাতিসঙ্ঘ কনভেনশন (ইউএনটিওসি) এবং এর সম্পূরক প্রোটোকলগুলোর (টিআইপি ও এসওএম প্রটোকল) আলোকে বাংলাদেশ সরকার ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে।”

তিনি বলেন, ‘নতুন এই আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি ভিকটিমদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

মানব পাচার প্রতিরোধে কেবল কঠোর আইনই যথেষ্ট নয়, বরং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম কর্মীদের বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে জানান তিনি।

কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন এই আইনের মাধ্যমে মানব পাচার অপরাধের প্রকৃতি ও ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত সংস্থাগুলোকে আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা, সম্পত্তি আটক করা এবং আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার করার মতো যুগান্তকারী বিধান এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট বা ভিসা জালিয়াতিকেও কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে মূলত অপরাধীদের আর্থিক জবাবদিহিতা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।