গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর সংসদ পরিচালনায় জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
বুধবার (৩ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালী-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক নবযাত্রার প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাব উত্থাপন, বিল পর্যালোচনা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে কার্যকর অংশগ্রহণের জন্য কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অপরিহার্য।
তিনি আরো বলেন, সংসদের প্রধান তিনটি দায়িত্ব হলো আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে এসব দায়িত্ব বাস্তবায়িত হয়। সংসদ শুধু রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না; বরং সরকারি দল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের সমান দক্ষ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়।
স্পিকার বলেন, সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে ইউএনডিপি ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘স্ট্রেনথেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিজ অ্যান্ড সার্ভিসেস (সিপস)’ কর্মসূচি সংসদ সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: মো: শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের করের অর্থে জাতীয় সংসদ পরিচালিত হয়। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং টেকসই গণতন্ত্র নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব নিয়েই সংসদ সদস্যরা তাদের কর্মভার গ্রহণ করেছেন। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি তাদের অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে এবং সেই দায়িত্ব পালনে তারা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ।
চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম মণি বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে উন্নয়নের স্বার্থে নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণের সমস্যা শুনতে এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করতে হয়। পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়।
তিনি বলেন, এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সংসদকে কার্যকর করতে হবে এবং কার্যকর সংসদ পরিচালনার পূর্বশর্ত হলো সংসদীয় রীতি-নীতি ও কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং সুইস রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলিও সংসদীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনব্যাপী এ ওরিয়েন্টেশন কোর্সের প্রথম গ্রুপে সংসদীয় আসন পঞ্চগড়-১ থেকে ধারাবাহিকভাবে বরগুনা-১, পটুয়াখালী-১ থেকে ভোলা-২, ভোলা-৪ থেকে ময়মনসিংহ-৫ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের ৩০১ নম্বর আসন থেকে ৩২৪ নম্বর আসন পর্যন্ত নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
সংসদ সদস্যদের সাংবিধানিক দায়িত্ব, কার্যপ্রণালী বিধির ব্যবহার, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, বাজেট পর্যালোচনা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে কার্যকর অংশগ্রহণ বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দ্বিতীয় দিনের মতো এই ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।



