বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলে উদ্ধার

নৌ-বাহিনী জানায়, গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে টহলকালে বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার বোট ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান থাকার তথ্য পায় ‘বানৌজা কপোতাক্ষ’। এরপর রাতের আঁধারেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে নৌ-বাহিনীর জাহাজটি।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলে
বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলে |সংগৃহীত

দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমুদ্রে সুশাসন বজায় রাখতে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত টহল পরিচালনা করে আসছে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৪ আগস্ট) বঙ্গোপসাগরে টহল কার্যক্রম পরিচালনার সময় মোংলা ফেয়ারওয়ে বয়ের কাছ থেকে ভাসমান অবস্থায় ‘এফবি আল আমিন’ এবং এর ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করে ‘বানৌজা কপোতাক্ষ’।

মঙ্গলবার আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

নৌ-বাহিনী জানায়, গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে টহলকালে বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার বোট ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান থাকার তথ্য পায় ‘বানৌজা কপোতাক্ষ’। এরপর রাতের আঁধারেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে নৌ-বাহিনীর জাহাজটি।

পরদিন সকালে প্রচণ্ড ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে মৎস্য বোটটিকে মোংলা ফেয়ারওয়ের সন্নিকটে শনাক্ত করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসমান ‘এফবি আল আমিন’ বোটটি ১৬ জন জেলেসহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় নৌ-বাহিনীর সদস্যরা জেলেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

উদ্ধারকৃত জেলেদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকা থেকে ১৬ জন জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ‘এফবি আল আমিন’যোগে সমুদ্রে যান। সমুদ্রে যাওয়ার দুই দিন পর বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। এরপর তিন দিন ধরে তারা সমুদ্রে ভাসছিলেন। পরে সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই নৌ-বাহিনী জাহাজটি বোটটিকে টেনে সুন্দরবন সংলগ্ন হিরণ পয়েন্টে নিরাপদে নিয়ে আসে। পরে বোটসহ জেলেদের বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, সমুদ্রে বিপদগ্রস্ত জেলে ও নৌ-যানকে দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দেয়া নৌ-বাহিনীর দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।