স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ইউনানী আয়ুর্বেদি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে গুরুত্ব না দেয়ায় এবং ভুলভাবে উপস্থাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বুয়ামা)।
মঙ্গলবার (১৩ মে) এক বিবৃতিতে বুয়ামার সভাপতি ডা: তাওহিদ আল বেরুনি ও মহাসচিব ডা. মো: মঈন উদ্দিন এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সংস্কার কমিটির রিপোর্টে চিকিৎসা খাতে বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে ব্যাপক বৈষম্যে নানাভাবে বৈষম্যের স্বীকার হয়েছে ইউনানী ও আয়ুবের্দিক ও হোমিও খাত। এই খাত নিয়ে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে তা ভুলে ভরা ও অসংগতিপূর্ণ।’
দু’ নেতা বলেন, ‘বিএমডিসি’র নিবন্ধিত চিকিৎসক ছাড়া কোনো চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখা যাবে না বলা হয়েছে। ব্যাপারটি যদি এমন হয় তাহলে হোমিও, ইউনানী ও আয়ুবেদিক চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে ওষুধ কেউ বিক্রি করবে না, এটা মেনে নিলে তো আমাদের পেশা ছেড়ে দিতে হবে। তাছাড়া বিএডিসি’র আইন অনুসারে বিএমডিসি’র স্বীকৃত চিকিৎসক ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবে না। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতরে হোমিও ও দেশজ চিকিৎসা নামে একটি বিভাগই রয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনে কোনো হোমিও, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের কোনো প্রতিনিধি ছিল না বলে কমিটির লোকজন এই ব্যাপারটিতে নজর দেয়ার সময় পাননি বলে আমরা মনে করি।’
কমিশনের রিপোর্টে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হোমিও চিকিৎসাকে প্রথাগত, ট্র্যাডিশনাল ও টিসিএম এ্যালায়েড এবং ট্র্যাডিশনাল হেলথ প্রফেশনাল বিভাগ নামে বিভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর হোমিও ও দেশজ চিকিৎসা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে দু’ নেতা আরো বলেন, ‘‘দেশজ চিকিৎসা’ নামটি চাই এবং অন্যকোনো নামে আমরা নামকরণ করা হোক তা চাই না।’
দু’ নেতা বলেন, ‘ইউনানী ও আয়ুর্বেদিকে বিদ্যমান অর্ডিন্যান্স সংস্কার করে যুগোপযোগী করতে ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন/অর্ডিন্যান্স এবং ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কাউন্সিল করার বিষয়টি উল্লেখিত হয়নি রিপোর্টে। অন্যদিকে কমিশনের রিপোর্টে হোমিও, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাসেবা গ্রহীতাদের যে তথ্য দেয়া হয়েছে তা একেবারেই ভুল। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ০.২ শতাংশ মানুষ হোমিও, ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা নিচ্ছে।’
দু’ নেতা আরো বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই বলেছে, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে ইউনানী আয়ুর্বেদিক ও হোমিও চিকিৎসা নিয়ে থাকে। বাংলা পিডিয়াতেও একই রকম তথ্য আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইউনানী, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বোর্ডের এক সমীক্ষায় গ্রামে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষ এবং শহরে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা নিয়ে থাকে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে বিভিন্ন স্থানে দেশজ চিকিৎসাকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে দু’ নেতা এর প্রতিবাদ করেন।’



