সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে নিরপেক্ষভাবে ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ফ্যাক্টচেকিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকারের ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করতে শুধু ম্যানুয়াল পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যাক্টচেকিং করার জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। অচিরেই এ বিষয়ে জাতীয় সংসদকে অবহিত করা হবে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো: রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বট বাহিনী অসত্য তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচার করলে সেগুলোও ফ্যাক্টচেকিংয়ের আওতায় আসবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি কোনো বট বাহিনী পরিচালনা করে না, ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ফ্যাক্টচেকের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার নিরপেক্ষভাবেই ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে অপতথ্য শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় ফ্যাক্টচেকিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এদিকে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সদস্য আবুল হাসনাত প্রেস কাউন্সিলের বর্তমান আইনের আওতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী মূলত প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যায়। কিন্তু একই প্রতিষ্ঠানের অনলাইন সংস্করণে কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হলে তার বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগের সুযোগ নেই।
এ অবস্থায় অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অপতথ্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ তৈরি এবং প্রেস কাউন্সিল আইনকে যুগোপযোগী করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান তিনি।
জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু বিরোধীদলীয় সদস্যরাই নন, দেশের মা-বোনদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দলের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অনলাইনে আক্রমণাত্মক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনলাইন গণমাধ্যমকে প্রেস কাউন্সিলের আওতায় আনার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন কিভাবে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়ে অন্যান্য দেশ কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, তা সরকার পর্যালোচনা করছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে পরামর্শও করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরামর্শ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও সুন্দর কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করার প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
সূত্র : বাসস



