২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ কর হার প্রস্তাব

‘নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে এ খাত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সৌরবিদ্যুৎ
সৌরবিদ্যুৎ |সংগৃহীত

পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে শূন্য শতাংশ কর হার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ব্যবহারকারীদের জন্য পাঁচ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব করেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর কর্তনের হার চার শতাংশ থেকে এক শতাংশ কমিয়ে তিন শতাংশ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। একইসাথে রিফাইনারির ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে করের হার এক দশমিক পাঁচ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ কমিয়ে এক শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য ও টেকসই জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপদ উৎস সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রসারে এ খাত সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ খাতের ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে প্রজ্ঞাপনটি ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে দেশে এ খাত সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার আশা করছে, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশে এসব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এক কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার শিল্পকে শক্তিশালী শুল্ক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এ ধরনের ট্রান্সফরমার আমদানিতে বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার এবং একইসাথে নতুন করে পাঁচ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুতের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃক কয়লা আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বাসস