মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, ১৮৮ বছরে ধরে বিএনপি গুম-খুন-নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বিএনপি এই দেশে একটা প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকারভিত্তিক, গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটা সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ‘গুম’ নামে কোনো শব্দ থাকবে না, ‘অত্যাচার’, ‘নির্যাতন’ নামে কোনো শব্দ থাকবে না।
আগামী ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ দিবসটিকে ঘিরে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে আলোচনায় অংশ নেবেন গুম খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবার।
শনিবার দুপুরে আয়োজিত সভার ভেন্যু পরিদর্শনে যান মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পরিদর্শন শেষে এ মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
তিনি বলেন, যেন কখনোই আর গুম না হয়, কখনোই যেন নির্যাতন না হয়, আর যেন কখনো মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয় তা প্রতিষ্ঠিত করবার জন্যই আমাদের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আমাদের সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও এই গুম-খুনের বিরুদ্ধে ওই সুদূর বিলেত থেকেও আন্দোলনে সবসময় অংশ নিয়েছেন এবং তিনি নিজে কিন্তু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আপন ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনেই কিন্তু মৃত্যু হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজেও কিন্তু নির্যাতনের শিকার। কিন্তু গণতন্ত্রের প্রশ্নে, দেশের প্রশ্নে তিনি আপস করেননি। দৃঢ়তার সাথে বলব, বর্তমান নির্বাচিত দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক সরকার একটি জনগণের সরকার। কোনো গুম, খুন বা কোনো ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনে এই সরকার বিশ্বাস করে না।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। আমরা সেই ভয়াল এবং ভয়াবহ যে একটি অধ্যায় ছিল, কালো অধ্যায়, সেটিকে অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা, যেখানে জোরপূর্বক গুম অথবা বলপূর্বক অন্তর্ধান, যে ভাষাতেই আমরা বলি না কেন- এই ধরনের ঘৃণিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কোনোদিন বাংলাদেশে সংঘটিত হবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার, আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। তাই বিগত দিনে এই যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোরও বিচার আমরা করব এবং সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে চলেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে যে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, যে গণহত্যা চালানো হয়েছে এবং এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দুই হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতাকে যারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে, বুকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে- তারা জেলে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলমান আছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তাদের বিচার হবে। বাংলাদেশের মানুষের দাবি যে তাদের সর্বোচ্চ বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে নিশ্চিত হয় এবং সেটা যাতে কার্যকর হয়, আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তাদেরকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বা প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে- এই কথাটি বলার কোনোই সুযোগ নেই।



