বিমানবন্দরে নিহত বিমান বাহিনীর ৩ সদস্যকে সামরিক মর্যাদায় দাফন

জানাজা শেষে তিন বিমানসেনার লাশ তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাদের দাফন সম্পন্ন করবে বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিদল।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানবন্দরে নিহত বিমান বাহিনীর ৩ সদস্যের সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন
বিমানবন্দরে নিহত বিমান বাহিনীর ৩ সদস্যের সামরিক মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন |ফাইল ছবি

তাদের দায়িত্ব ছিল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিমানবন্দরে প্রতিদিন হাজারো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে নীরবে কাজ করে যাচ্ছিলেন তারা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই তিন বিমানসেনার জীবনের শেষ অধ্যায় রচিত হলো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বিমান বাহিনীর সদস্যরা।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তায় তারা নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। সেই দায়িত্বের ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতেও তারা ছিলেন কর্মস্থলে। কিন্তু দায়িত্ব শেষে আর ঘরে ফেরা হলো না সুলতান মাহমুদ, মনিরুজ্জামান পিয়াস ও জুবাইদুল ইসলামের।

সোমবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে কিউআরএফ (কুইক রেসপন্স ফোর্স)-এর দায়িত্ব পালনের সময় বিমান বাহিনীর সাত সদস্যকে বহনকারী একটি জিপ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে। মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার করে তাদের নেয়া হয় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন বিমানসেনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হলেন- বিমান বাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, কর্পোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস এবং এলএসি মো: জুবাইদুল ইসলাম। তাদের মৃত্যুতে বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গুরুতর আহত অপর চার সদস্য বর্তমানে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা সেনানিবাসের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারের (কুর্মিটোলা) সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে সামরিক মর্যাদায় তাদের নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন মরহুমদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

সামরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও এদিন বিকেলে সবচেয়ে ভারী হয়ে উঠেছিল পরিবেশ। সামনে সারিবদ্ধ তিনটি কফিন। চারপাশে সহকর্মী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বজন ও সামরিক সদস্যরা। যারা এতদিন সহকর্মী হিসেবে পাশে ছিলেন, তাদের আজ শেষ বিদায় জানাতে হলো। অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের সদস্য, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে তিন বিমানসেনার লাশ তাদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাদের দাফন সম্পন্ন করবে বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিদল।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি জানানো হয়েছে আন্তরিক সমবেদনা। একইসাথে দুর্ঘটনায় আহত চার সদস্যের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।