প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। তাই আসুন আগামীতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলনে শরিক দলের নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশ ভোজের আগে দেয়া বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
জোট নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ছোট ভাই হিসেবে আপনাদের বলব আমাদের সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ, আমাদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন আমরা সকলে মিলে জনগণের প্রত্যাশার জায়গাগুলো আগে খুঁজে বের করে তা পূরণ করার চেষ্টা করি। এটা করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো কোনো জায়গায় দ্বিমত হতে পারে, তবে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। ভুল বুঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বড় শক্তি হচ্ছে এই দেশের জনগণ। জনগণের সমর্থন বিএনপিসহ সকল যুগপথ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সাথে আছে। তাই আমাদের শক্তি, জোর ততক্ষণ থাকবে যতক্ষণ জনগণের সমর্থন আমাদের সাথে থাকবে। এবং সেটা আল্লাহর রহমতে আমাদের সাথে আছে। কাজেই আমাদের মধ্যে যদি কোনো বিভেদ না থাকে, আমরা নিশ্চয়ই আমাদের ৩১ দফার আলোকেই হোক কিংবা জুলাই সনদের আলোকে হোক ইনশাআল্লাহ সকলে মিলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
ক্ষমতা গ্রহণের পরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কী ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া পুরো দেশ ছিল বিধ্বস্ত। ইকোনমি, জ্বালানি, বিদুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রত্যেকটি ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। এই অবস্থায় আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। তারপরেও আমরা রাতদিন পরিশ্রম করার মাধ্যমে চেষ্টা করেছি কীভাবে দেশের মানুষকে একটু স্বস্তি দেয়া যায়। শতভাগ পেরেছি কিনা জানি না, তবে আমরা চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি। শতভাগ না হলেও নিশ্চয়ই কেউ অস্বীকার করবে না-একদম নতুন একটি সরকার হিসেবে যেভাবে কাজ করছি, তাতে মানুষজনকে কিছুটা হলেও আমরা কমফোর্ট দিতে সক্ষম হয়েছি। আগামীতে সরকার পরিচালনায় সকলকে আহ্বান জানাবো আমাদের পাশে থাকার।’
এর আগে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনায় অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শরিক দল ও জোট নেতাদের টেবিলে টেবিলে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
কুশল বিনিয়ম পর্বের পর নেতাদের নিয়ে রাতে খাবার টেবিলে বসেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। কোরআন তিলাওয়াত করেন ইসলামী ঐক্যজোটের শওকত আমিন।
শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বুফে দাঁড়িয়ে শরিক নেতাদের সাথে খাবার নেন এবং শরিক নেতাদের সাথে এক টেবিলে খাবার খান। এ টেবিলে ছিলেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী জনশক্তি পার্টির শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।
জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের নুরুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির আবুল কাসেম, কল্যাণ পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের মহিউদ্দিন কাদরি শওকত, খোকন চন্দ্র দাস, বাংলাদেশ ন্যাপের শাওন সাদেকী, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ-এর নুরুল আমিন ব্যাপারি, গণদলের এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল, গণফোরামের মিজানুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ফারুক হাসান, আমজনতা দলের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মিয়া মসিউজ্জামান, আমজনতার দলের তারেক রহমান, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) সাধারণ সম্পাদক হারুন চৌধুরী, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টির আমিনুল ইসলাম, খন্দকার আহসান হাবিব, জনতার অধিকার পার্টির তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, এম এ আর রাজা রহমান, এনডিপির একাংশের কেএস আবু তাহের, অপর অংশের আবদুল্লাহ আল হারুন, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিএনপির শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, রেদোয়ান আহমেদসহ ৪১ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাসস



