ঢাকায় ২ দিনব্যাপী সার্সোর ১১তম গভর্নিং বোর্ড সভা সম্পন্ন

‘সার্সোর কার্যক্রম শুধু মান নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সার্সো ভবিষ্যতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সার্সোর ১১তম গভর্নিং বোর্ড সভা সম্পন্ন
সার্সোর ১১তম গভর্নিং বোর্ড সভা সম্পন্ন |সংগৃহীত

সার্কভুক্ত দেশগুলোর আঞ্চলিক মান সংস্থা সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন (সার্সো) এর গভর্নিং বোর্ডের ১১তম সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

৩ ও ৪ জুন রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ সভায় সার্সোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।

সার্সোর গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারপারসন এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে মান নির্ধারণ, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত বাধা দূরীকরণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় ২০২৫ সালে সার্সোর কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সার্সোর টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বোর্ড (টিএমবি) কর্তৃক উপস্থাপিত প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মানসম্মত পণ্য ও সেবার প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের কর্মপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় নতুন সেক্টরাল টেকনিক্যাল কমিটি (এসটিসি) গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে আঞ্চলিক মান উন্নয়ন ও সমন্বয় কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভার সমাপনী বক্তব্যে সার্সোর চেয়ারপারসন কাজী ইমদাদুল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণ, পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তিগত বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বিত ও যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, সার্সোর কার্যক্রম শুধু মান নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সার্সো ভবিষ্যতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

১১তম গভর্নিং বোর্ড সভার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন গ্রহণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ গুরুত্বপূর্ণ সভার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে মান উন্নয়ন, বাণিজ্য সুবিধাকরণ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। বাসস