মামলার জট কমাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার : আইনমন্ত্রী

‘বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগ এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আদালতের সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংসদ অধিবেশন ও আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান (ইনসেটে)
সংসদ অধিবেশন ও আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান (ইনসেটে) |সংগৃহীত

দেশের আদালতগুলোতে মামলার জট কমানো এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুততর করতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে ৫৩৬টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগ এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে আদালতের সহায়ক কর্মচারী নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংসদে যশোর-৪ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো: গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী জানান, সরকার সম্প্রতি ৬৫০টি সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, ৪০৬টি যুগ্ম জেলা জজ আদালত এবং ২০৪টি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে।

নবপ্রতিষ্ঠিত এসব আদালতের জন্য নতুন বিচারকের পদ সৃষ্টির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে বর্তমানে মোট পাঁচ লাখ ৬১ হাজার ৪৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে আপিল বিভাগে ৩৮ হাজার ৭১৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে পাঁচ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি মামলা বিচারাধীন। গত ২০২৫ সালে আপিল বিভাগে সাত হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলাসহ মোট ৬৩ হাজার ৩০৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

তিনি আরো জানান, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি দেওয়ানি এবং ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি ফৌজদারি মামলা। তবে গত এক বছরে অধস্তন আদালতে মোট দুই লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ হাজার ৭৩টি দেওয়ানি এবং দুই লাখ ২৬ হাজার ১১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বিচারক ও জনবল বৃদ্ধি এবং নতুন আদালত প্রতিষ্ঠাসহ সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং বিচারপ্রার্থীরা আরো দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন। বাসস