দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে বিষয়টি জানান তিনি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি এ নোটিশ পাঠান।
পোস্টে আসিফ মাহমুদ লিখেন, গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানান। ওই বক্তব্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
আসিফ মাহমুদের দাবি, কোনো তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দেয়া ওই বক্তব্যের কারণে তাকে ঘিরে ব্যাপক মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়। এতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত—এমন ধারণা জনমনে তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তার বক্তব্যটি ভুলবশত দেয়া হয়েছিল বলে জানান। একইসাথে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’র বিষয়টি বাদ দেয়ার অনুরোধ করেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে অভিযোগগুলোর তথ্যগত অসংগতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
এছাড়া, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোও ভিত্তিহীন বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, আসিফ মাহমুদ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি হয় ১১ মে ২০২৬।
নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে ১৫ দিনের মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।



