পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রফতানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার : পাটমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, পাটজাত পণ্যের রফতানি বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কাঁচাপাটের গুণগত মান উন্নয়নে ঢাকা ও খুলনার দুটি পাটপণ্য পরীক্ষাগার আধুনিকায়ন এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও বীজ উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রফতানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) পিএলসির মাধ্যমে রফতানিযোগ্য বহুমুখী পাটজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি জানিয়েছেন, পাটজাত পণ্যের রফতানি বৈচিত্র্য, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কাঁচাপাটের গুণগত মান উন্নয়নে ঢাকা ও খুলনার দুটি পাটপণ্য পরীক্ষাগার আধুনিকায়ন এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও বীজ উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মানসম্মত পাটজাত পণ্য রফতানি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া পাটজাত পণ্য রফতানি বৃদ্ধিতে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক রফতানিকারকদের নগদ ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য শেখ মো: রেজাউল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত তারক চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৩৮টি দেশে পাটজাত পণ্য রফতানি করা হয়। দেশগুলো হলো- চীন, ইরান, স্পেন, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, পাপুয়া নিউগিনি, তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, ভারত, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, জাপান, জার্মানী, অস্ট্রেলিয়া, লিবিয়া, ডেনমার্ক, ব্রাজিল, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, হাংগেরী, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চিলি, রোমানিয়া, কানাডা, পেরু, শ্রীলঙ্কা, রাশিয়া, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান, নেপাল, তিউনেশিয়া, আইভরি কোস্ট ও থাইল্যান্ড।

তিনি জানান, পাটজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) পিএলসি দেশের বাইরে বিভিন্ন মেলা, সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের রফতানির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বহুমুখী পাটপণ্য রফতানিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, এক্সপোর্ট ডকুমেনটেশন প্রশিক্ষণ, এক্সপোর্ট সার্টিফিকেশন, ডিজাইন ডেভলপমেন্ট, প্রডাক্ট ডেভলপমেন্ট, পণ্যের গুণগতমান উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সচেতনতা কর্মশালা, ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফলে পাটজাত পণ্যের রফতানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ-বছরে পাটপণ্য রফতানির পরিমাণ ৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৯ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরে জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাটপণ্য রফতানির পরিমাণ ৪ লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন।

সূত্র : বাসস