চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ, পরিদর্শন করেছেন প্রতিমন্ত্রী

ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনের প্রায় ৫০০ মিটার অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এ রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং পানি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন পরিদর্শন করেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন পরিদর্শন করেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ |সংগৃহীত

গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পানির ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী সেকশনের শমসের পাড়া এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আজ বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এর আগে, গতকাল রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি রেল চলাচলের সার্বিক পরিস্থিতি, যাত্রীসেবা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো: জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীনসহ বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের কারণে জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী শমসের পাড়া এলাকায় মঙ্গলবার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা বাতিল করে বুধবার বিকেলে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা।

এছাড়া আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেটে গিয়ে পানি নেমে গেলে রেলপথ পরিদর্শন সাপেক্ষে যথাশীঘ্র ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, যেসব যাত্রী গন্তব্যে যেতে না পেরে পথে আটকা পড়েছেন, তাদের ট্রেনযোগে ঢাকায় ফেরত আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া যেসব যাত্রী টিকিটের মূল্য ফেরত নিতে চান, তারা সংশ্লিষ্ট স্টেশনের কাউন্টার থেকে ভাড়ার টাকা ফেরত নিতে পারবেন। স্থগিত হওয়া অন্যান্য যাত্রার টিকিটের মূল্যও সংশ্লিষ্ট কাউন্টার থেকে ফেরত দেয়া হবে।

আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে সম্মানিত যাত্রীদের রেলযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

সূত্র : বাসস