সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছেন ১০২ জন, এখনো চিকিৎসাধীন ৫০ জুলাই যোদ্ধা

চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও মাসিক ভাতায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে

গুরুতর আহত ১৫২ জন জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন।

সংসদ প্রতিবেদক
সংসদ অধিবেশন
সংসদ অধিবেশন |ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং মাসিক সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

তিনি জানিয়েছেন, গুরুতর আহত ১৫২ জন জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৫০ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

রোকেয়া বেগম প্রশ্নে জানতে চান, সারা দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আহত প্রায় ৩০ হাজার যোদ্ধার চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও মাসিক ভাতার বিষয়ে সরকারের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে কি না।

জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও মাসিক সম্মানী ভাতার বিষয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একইসাথে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে বাংলাদেশ মিশন বিদেশে চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করছে।

আহমেদ আযম খান বলেন, এ পর্যন্ত গুরুতর আহত ১৫২ জন জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০২ জন চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আগ্রহী ৩ হাজার ২৪১ জনের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য এক হাজার ৯৩৭ জনের তালিকা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মাসিক সম্মানী ভাতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত মোট ১৪ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৪৪ জনকে তাদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেয়া হচ্ছে। এর আওতায় ক-শ্রেণির প্রতিজন মাসে ২০ হাজার টাকা, খ-শ্রেণির প্রতিজন ১৫ হাজার টাকা এবং গ-শ্রেণির প্রতিজন ১০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। অবশিষ্ট জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।