পূজা উদযাপন পরিষদের সাথে সাক্ষাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট আ’লীগের সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে

‘বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দু’–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ |নয়া দিগন্ত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দু’–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের এক প্রতিনিধিদল এই সাক্ষাতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী।

বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যেসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের হার সবচেয়ে কম। দু’–একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

সাক্ষাৎকালে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার লক্ষ্যে একজন ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নির্ধারণের দাবি জানান। মন্ত্রী অত্যন্ত সহানুভূতির সাথে দাবিটি বিবেচনার এবং তা শিগগিরই বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেন।

আলোচনাকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হরিদাস চন্দ্র কর্তৃক রামমন্দির নির্মাণ এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী কর্তৃক দেশের সার্বভৌমত্ববিরোধী বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সুরক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সকল সম্প্রদায়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা আবশ্যক।’

তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন যেকোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।