কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) প্রশাসন ও অর্থ শাখাকে ঘিরে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খামারবাড়ি। সরকারের পরিবর্তনের পর প্রশাসন-১ (এডিডি-১) ও প্রশাসন-২ (এডিডি-২) পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনপন্থী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে শুরু হয়েছে নীরব আধিপত্যের লড়াই। চলছে তদবির, পাল্টা তদবির ও দেনদরবার। এমনকি সদ্য পদায়ন পাওয়া এক কর্মকর্তার নিয়োগ একই দিনে সকালে বাতিল এবং বিকেলে পুনর্বহালের ঘটনাও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনেছে।
ডিএইর প্রশাসন ও অর্থ শাখাকে দীর্ঘদিন ধরেই অধিদফতরের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক ও অতিরিক্ত উপপরিচালকের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় তিন হাজার বিসিএস কৃষি ক্যাডার কর্মকর্তার বদলি-পদায়নের ফাইল প্রথমে প্রশাসন-১-এর অতিরিক্ত উপপরিচালকের টেবিলে আসে। অন্যদিকে প্রশাসন-২ শাখা থেকে কর্মচারীদের পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে দুটি পদই ডিএইর সবচেয়ে প্রভাবশালী দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।
গত ২৪ মে প্রশাসন-১-এর অতিরিক্ত উপপরিচালক মো: হাসানুজ্জামানকে টাঙ্গাইলে বদলি করা হলেও দীর্ঘদিন নতুন কর্মকর্তা না আসায় তিনিই দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে ২ জুলাই ফেনীর অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো: সোফায়েল হোসেনকে প্রশাসন-১ এবং মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানাকে প্রশাসন-২-এর অতিরিক্ত উপপরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়। রকিব আল রানা এ এ মাসুম বিল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হন। সম্প্রতি কেআইবিতে কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খানকে ঘুষি মারার ঘটনায় মাসুম বিল্লাহকে সুনামগঞ্জ এবং বনি আমিন খানকে নড়াইলে বদলি করা হয়।
তবে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক দিনের মাথায় গত রোববার সকালে সোফায়েল হোসেনের পদায়ন বাতিল করে কৃষি মন্ত্রণালয়। একই দিন বিকেলে নতুন আদেশে তাকে আবারো ওই পদে বহাল করা হয়। একই দিনে পরস্পরবিরোধী দুটি প্রজ্ঞাপন জারির ঘটনায় অধিদফতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই পদে নিয়োগ নিয়ে এখনো একাধিক প্রার্থী ও প্রভাবশালী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য, এডিডি-১ ষষ্ঠ গ্রেডের পদ হলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা থেকে জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসহ মাঠ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের মতো এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদায়নকে ঘিরে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়, যদিও এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
খামারবাড়ির একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে প্রশাসন ও অর্থ শাখার উপপরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক এবং পরিচালক পদেও পরিবর্তনের তৎপরতা চলছে। উপপরিচালক মুরাদুল হাসান ও অতিরিক্ত পরিচালক কাজী মুজিবুর রহমানকে সরিয়ে নতুন মুখ আনার চেষ্টা চলছে বলে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মো: জাকির হোসেন শিগগিরই অবসরে যাওয়ায় তার উত্তরসূরি নিয়েও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ভিদ সংগনিরোধ ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের কিছু পদ লাভজনক হিসেবে পরিচিত হলেও প্রশাসন-১ ও প্রশাসন-২-এর অতিরিক্ত উপপরিচালক পদ দুটি এখনো সবচেয়ে প্রভাবশালী। কারণ এখান থেকেই ডিএইর বদলি-পদায়নের বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হয়।
খামারবাড়ি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে প্রশাসন ও অর্থ শাখায় দল বিবেচনায় পদায়ন হয়েছে। খামারবাড়িসহ মাঠ কৃষিতে এই শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ৫ আগস্ট-পরবর্তী খামারবাড়ি প্রশাসনে পরিবর্তন আসে। বিএনপিপন্থী কর্মকর্তারা প্রশাসন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেন। তবে, দলীয় বিভেদে ছয় মাস যেতে না যেতেই উপপরিচালক (প্রশাসন)সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসে। বিএনপিপন্থী অন্য কর্মকর্তারা নেতৃত্বে আসেন।



