ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্বও ফাঁকি দেয়ার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি ও সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এখন থেকে সরকারি জমিতে অবৈধ দখলদারদের আর কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কক্ষে চা বাগান ব্যবস্থাপনা এবং গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩ সম্পর্কিত এক অবহিতকরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় হবিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আবুল হাসেম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলার চা বাগানগুলোর বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। চা বাগান ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, দেশে ১৬৬টি চা বাগানের মোট দুই লাখ ৮২ হাজার ৩৪৬ একর জমির মধ্যে চা চাষযোগ্য ও অনুপযোগী জমি ও অন্যান্য ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত জমির পরিমাণ পৃথক ও সঠিক তথ্য দ্রুত প্রদান করতে হবে।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যেসকল চা বাগান থেকে বিগত ১৩ বছর সরকার কেন কোনো রাজস্ব পেল না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। যারা অবৈধভাবে এ যাবৎকাল সরকারের পাওনা পরিশোধ করেনি, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়, আমরা চাই দেশের এক ইঞ্চি জমিও যাতে বেহাত না হয়। সরকারি জমি জবরদখলে রেখে রাজস্ব দেয়া হবে না, এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে প্রতিমন্ত্রী ‘গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-৩’ এর অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। সভায় জানানো হয়, প্রায় ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ হাজার ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি খুব শিগগিরই একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় সমতল, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের জন্য পৃথক মডেলে ঘর নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: এমদাদুল হক চৌধুরী, যুগ্মসচিব জহিরুল ইসলাম, উপ-সচিব মো: শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



