খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ভেজাল খাদ্য শনাক্তে ৬৪ জেলায় ভ্রাম্যমাণ ল্যাব ভ্যান চালু করবে সরকার

‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৬৪ জেলা ও আট বিভাগীয় কার্যালয়ে ৭২টি মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে। এসব ল্যাবে গত পাঁচ মাসে ছয় হাজার ৭৯৫টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ৭০০টি নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংসদে কথা বলেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী
সংসদে কথা বলেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী |সংগৃহীত

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী বলেছেন, ভেজাল খাদ্য শিগগিরই শনাক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪টি জেলায় ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি ভ্যান চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব ভ্যানে মিনি ল্যাবরেটরি থাকবে, যার মাধ্যমে জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের বাজারে তাৎক্ষণিক খাদ্য পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ভেজাল প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বিএসটিআই, কৃষি, মৎস্য ও স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ঝালকাঠি-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দণ্ডবিধি, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯, বিএসটিআই আইন-২০১৮ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ অনুযায়ী ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিষাক্ত বা ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৬৪ জেলা ও আট বিভাগীয় কার্যালয়ে ৭২টি মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন করেছে। এসব ল্যাবে গত পাঁচ মাসে ছয় হাজার ৭৯৫টি খাদ্য নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার ৭০০টি নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে আটটি বিভাগীয় শহরে আটটি মোবাইল ল্যাবরেটরি ভ্যানের মাধ্যমে দুধ, ঘি, শাকসবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যে তাৎক্ষণিক ভেজাল পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৬৪ জেলার জন্য আরো ৬৪টি মোবাইল ল্যাব ভ্যান কেনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে ঢাকা শহরে একটি কেন্দ্রীয় রেফারেন্স ল্যাবরেটরি এবং চট্টগ্রাম ও খুলনায় দু’টি বিভাগীয় ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া টেলিভিশন, বেতার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে পাঁচটি প্রবিধান প্রণয়নের কাজ চলছে।

তিনি জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা বন্দর ও বেনাপোল বন্দরে আমদানিকৃত সব খাদ্যপণ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্পূরক প্রশ্নে রফিকুল ইসলাম জামাল মাঠপর্যায়ে আধুনিক খাদ্য পরীক্ষার যন্ত্রপাতির অভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং ঝালকাঠিসহ সারাদেশে আধুনিক ল্যাব সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঝালকাঠিসহ দেশের সব ৬৪ জেলাতেই মিনি ল্যাবরেটরি রয়েছে। এগুলোর সক্ষমতা আরো বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ৬৪টি ভ্রাম্যমাণ ল্যাব ভ্যান চালু হলে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়েও তাৎক্ষণিক খাদ্য পরীক্ষা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও ভেজালবিরোধী কার্যক্রম আরো জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরো গতিশীল করা হবে। বাসস